সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক সপ্তাহ আগে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে মালগাড়ির চাকা পিষে দিয়েছিল ১৬ জন পরিযায়ী শ্রমিককে। দিন পরিবর্তীত হলেও পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়তির পরিবর্তন হয়নি। বাড়ি ফিরতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের ৩টি ভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৬জন।
কতটা পথ হাঁটলে তবে বাড়ি ফেরা যায় তা পরিযায়ী শ্রমিকরা জানেন না। কতটা অপেক্ষা করলে তবে পরিজনেদের মুখটুকু দেখতে সেটাও তাদের অজানা। তবে হাল না ছেড়ে লকডাউনের মধ্যেই বাড়ি ফেরার জন্য রওনা দেন। লকডাউনে অসহায় শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি, দোষারোপ আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি কিছুই তাদের বাড়ি ফেরা থেকে বিরত করতে পারছে না। গুজরাট থেকে উত্তরপ্রদেশ ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ৩ পরিযায়ী শ্রমিক। জানা যায়, উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি (Barabanki) থেকে একশো কিলোমিটার দূরে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে। এই ৩ জজনের সঙ্গে আরও ৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকেরা ছিলেন বলে জানা যায়। তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লকনউয়ের একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশেরই বাহারাইচয়ে (Bahraich) আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। মহারাষ্ট্র থেকে ২ জন পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক দুর্ঘটনায় মারা যান। স্থানীয়রা জানান, “৩৪ জন পরিযায়ী শ্রমিককে নিয়ে একটি ট্রাক মহারাষ্ট্র থেকে ফিরছিল। মাঝ রাস্তায় হঠাৎ ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ট্রাকে থাকা ২ জন শ্রমিক। বাকি ৩২ জন আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” এখানেই শেষ নয়, উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলাতেও দুর্ঘটনার কবলে পড়েন আরও ২ পরিযায়ী শ্রমিক। তারাও ভিন রাজ্য থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন বলে সূত্রের খবর।
[আরও পড়ুন:বাংলাদেশের প্রয়াত শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের রিপোর্টও মিলল এবার করোনার হদিশ]
প্রধানমন্ত্রী-সহ মুখ্যমন্ত্রীদের এক বারণ সত্ত্বেও ছেদ পড়েনি শ্রমিকদের মৃত্যুমিছিলে। বৃহস্পতিবারের মত শুক্রবারও বজায় থাকল পরিযায়ী শ্রমিকদের অকাল মৃত্যু। তবে কেন বার বার বারণ করা সত্ত্বেও ট্রাকে চড়ে বা হেঁটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা? কেন বার বার তাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে? এর উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে কোন রাজনীতির জটিল ধাঁধাঁয়।