সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিজয়োৎসবের মাঝে কি মানবিকতা কম পড়ল! বাইরে যখন একের পর এক সমর্থক মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছেন, স্বজনহারাদের কান্নায় আকাশ বাতাস আলোড়িত, তখনও স্টেডিয়ামের ভিতরে চলল বিজয়োল্লাস। একের পর এক সমর্থকদের যখন হাসপাতালে নিয়ে ছুটছে পুলিশ, গ্যালারিজুড়ে তখন ভিকট্রি ল্যাপ করলেন বিরাট কোহলিরা। অথচ এই আনন্দে শামিল হতে গিয়ে যাঁদের প্রাণ গেল, যাঁরা আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তাঁদের জন্য একটি শব্দও খরচ করল না আরসিবি কর্তৃপক্ষ।
আরসিবি আইপিএল জেতার পর থেকেই বেঙ্গালুরুজুড়ে বিজয়োল্লাস চলছে। বুধবার শহরে একটি রোড-শো হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা প্রশাসন বাতিল করে যানজটের কথা ভেবে। বদলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সেলিব্রেশনের আয়োজন করে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা। সেটাতেই বিপত্তি। এই সেলিব্রেশনের জন্য লক্ষ লক্ষ সমর্থক জড়ো হন স্টেডিয়ামের বাইরে। স্টেডিয়ামে ঢোকার জন্য আলাদা পাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ সেখানে জড়ো হন। রাস্তায় বিরাট যানজট হয়ে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ে। প্রাণে বাঁচতে সমর্থকরা একে-অপরকে টপকে পালাতে যান। তাতে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত ৫০ জন।

বাইরে যখন এসব হচ্ছে, তখনও ভিতরে সেলিব্রেশন চলছে। বিরাট কোহলি-রজত পাতিদাররা সমর্থকদের জন্য ট্রপি নিয়ে ভিকট্রি ল্যাপ দিচ্ছেন স্টেডিয়ামে। এত বছর ধরে পাশে থাকার জন্য বিরাট, ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সমর্থকদের। কোহলি, রজত পাতিদাররা এই সাফল্যের জন্য একে অপরকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। অথচ একবারও কেউ আহতদের সমবেদনা জানালেন না, বা মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার কথা বললেন না। তর্কের খাতিরে বলা যেতেই পারে, বিরাটরা হয়তো জানতেন না পুরো ঘটনা, কিন্তু ঘটনার এক ঘণ্টা পরও সেই যুক্তি খাটে কি?
এখানে আরও বেশি করে প্রশ্ন তুলতে হয় কর্নাটক সরকারের ভূমিকা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া পদপিষ্ট হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার যেটা করলেন সেট আর যাই হোক দক্ষ প্রশাসকের ভূমিকা হতে পারে না। পদপিষ্ট হওয়ার খবর শুনে তিনি স্টেডিয়ামে গেলেন, মেনে নিলেন, “পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ৫০০০ নিরাপত্তারক্ষী ছিল। কিন্তু আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।” এমনকী ক্ষমাও চাইলেন। তারপর নিজেই স্টেডিয়ামে ঢুকে বিরাটদের সেলিব্রেশনের মধ্যমণি হয়ে রইলেন। যেন কিছুই হয়নি। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শিবকুমারের বক্তব্য, “দুর্ঘটনার কথা ভেবে আমরা সেলিব্রেশন ১০-১৫ মিনিটেই শেষ করে দিয়েছি।” ভাবখানা এমন যেন মৃতদের প্রতি দয়া দেখানো হয়েছে। বাইরে মৃত্যুমিছিল আর ভিতরে সেলিব্রেশন, এ ছবি আর যাই হোক খেলার মাঠে কাম্য নয়।