সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমাজের ‘নিয়ম’ ভেঙে বিয়ে করায় নবদপ্ততিকে শাস্তি মোড়লদের! ফের ওড়িশার বর্বরতার ছবি প্রকাশ্যে। কাঁধে লাঙল বেঁধে গ্রাম ঘোরানো হল আদিবাসী যুগলকে। রবিবার ওড়িশার কোরাপুট জেলার নারায়ণপাটনা ব্লকের এমন ঘটনার একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়। বারবার ওড়িশার এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে সেরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা। যদিও ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একই পরিবারের ওই যুবক-যুবতীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাঁরা বিয়ে করেন। এই ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হন গ্রামের মোড়লরা। তাঁরা নিদান দেন এই কাজ করে ওই যুগল সমাজের ‘রীতি’ ভেঙেছেন। এরপরই এই পাপের জন্য তাঁদের প্রায়শ্চিত করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো কাঁধে লাঙল বেঁধে গোটা গ্রাম ঘোরানো হয় নবদম্পতিকে।
গত কয়েকদিন আগে ওড়িশার একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। দূর সম্পর্কের দাদাকে বিয়ে করার অপরাধে এক যুগলকে কাঁধে লাঙল দিয়ে জমি চাষ করানো হয়েছিল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। বিজেপি শাসিত রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। চাপে পড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই ধরণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফের একবার সে রাজ্যে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, একই পরিবারের মধ্যে বিয়ে করার অপরাধে প্রথমে ওই যুগলের কাঁধে লাঙল দিয়ে গ্রাম ঘোরানো হয়। তারপর তাঁদের শুদ্ধিকরণ করানো হয়। এরপরই তাঁদের গ্রামে থাকার অনুমতি দেন মোড়লরা। ওই যুবকের দাদা সন্তোষ পিডিকার বক্তব্য, “ওই দু’জন বিয়ে করে সমাজের রীতি ভেঙেছেন। তাছাড়া একই পরিবারের মধ্যে বিয়ে করলে ভগবান রুষ্ট হন। আর এর প্রভাব পড়ে চাষবাসের উপর। ফসলের ফলন ভালো হয় না। সে কারণেই ওই দু’জনের কাঁধে লাঙল বেঁধে তাঁদের পাপের প্রায়শ্চিত্ব করানো হয়েছে।”