সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খুব শিগগির ই-বুকের সুবিধা পেতে চলেছে বিশাখাপত্তনমে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দিরা। এই প্রথম অন্ধ্রপ্রদেশ জেল চত্বরেই বসছে ডিজিটাল গ্রন্থাগারের সেটআপ। এই সেটআপ বসাতে নিজের সাংসদ তহবিল থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা অর্থ সাহায্য করেছেন আরাকুর সাংসদ কোথাপাল্লি গীতা। মূলত জেলবন্দিদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাসকে বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলবন্দিদের মানসিক উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রেখে ডিজিটাল গ্রন্থাগারে ই-বুকের পাশাপাশি স্ব-বিকাশ ও প্রেরণামূলক বিষয় ভিত্তিক ভিডিওর বন্দোবস্তও করা হয়েছে।
[জানেন, প্রধানমন্ত্রীর ধোপধুরস্ত পোশাকের খরচ বহন করে কে?]
এই প্রসঙ্গে জেল-সুপার এস রাহুল জানান, বিশাখাপত্তনম সেন্ট্রাল জেলে ১২০০ জন বন্দি রয়েছে। এরমধ্যে ৪৫০ জন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। জেলের নিয়মিত গ্রন্থাগারে ৯০০০ বই রয়েছে। জীবন ও সমাজের প্রতি জেলবন্দিদের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলাই এই গ্রন্থাগারের মূল উদ্দেশ্য। প্রেরণামূলক বইয়ের পাশপাশি, জীবনী, আত্মজীবনী, ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক বইও থাকবে ডিজিটাল গ্রন্থাগারে। পুরো প্রকল্পটি যদি নিয়মমাফিক এগোয় তাহলে এক মাসের মধ্যেই ডিজিটাল গ্রন্থাগারের বাস্তবায়ন সম্ভব।
জেলকে আমাদের দেশে জেল কম সংশোধনাগার হিসেবে দেখা হয়। সেইমতো সংশোধনাগারে বন্দিদের মানসিক পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। যাতে সাজার মেয়াদ শেষে তারা একটা নতুন জীবন পায়। পূর্ববর্তী জীবনে করা অন্যায় কাজের জন্য যেন অপরাধবোধ জন্মায়। সেই অপরাধবোধই মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির আগামী জীবনকে সুস্থ রাস্তায় চলার অনুপ্রেরণা দেয়। তাই সংশোধনাগারে বন্দিদের বিনোদন ও একই সঙ্গে সংশোধনের কাজ করে বই। গ্রন্থাগার তাই অনেকাংশেই বন্দিদের মানসিক উত্তরণে বড় ভূমিকা নেয়। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল গ্রন্থগার বন্দিদের কাছে উপরি পাওনা বইকি। ডিজিটাল গ্রন্থাগারের কম্পিউটর নির্দিষ্ট একটি বইয়ের নাম, লেখক ও বইয়ের ক্ষুদ্র সারাংশের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেবে এক লহমায়। এর সাহায্যেই বন্দিরা গ্রন্থাগারে গিয়ে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের সাহায্যে পছন্দের ই-বুকটি খুঁজে নিতে পারবেন।
[৪০ জন স্কুল পড়ুয়া-সহ আরব সাগরে উলটে গেল নৌকা, নিখোঁজ ৮]
উল্লেখ্য, অন্ধ্রপ্রদেশে চারটি কেন্দ্রীয় কারাগার কাদাপা, নেল্লোর, রাজামুন্দ্রি ও বিশাখাপত্তনমে রয়েছে। একমাত্র বিশাখাপত্তনমের কারাগারেই এই ডিজিটাল গ্রন্থাগারের সুবিধা পাওয়া যাবে। রাজ্যের একমাত্র মুক্ত কারাগারটি রয়েছে অনন্তপুরে।