সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলওয়ামার ঘটনায় ব্যথিত গোটা দেশ। ব্যথিত আমরাও। প্রতিশোধ স্পৃহায় জ্বলছে দেশবাসী। তাজা বারুদের মতোই জমছে ক্ষোভ। শুধু অগ্নিসংযোগের অপেক্ষা। একটু আগুনই হয়তো বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিংবা রাজনৈতিক হিংসার বধ্যভূমিতে পরিণত হতে পারে ভারত। আর দেশবাসীর এই চাপা ক্ষোভকেই কাজে লাগিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য গোষ্ঠীর প্রতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই জমানো বারুদে অগ্নিসংযোগের কাজটি করছে একশ্রেণির মানুষ। যা সমাজে বিষ ছড়ানোর পক্ষে যথেষ্ঠ।
[স্থানীয় জেহাদিদের বাড়বাড়ন্তেই রক্তাক্ত উপত্যকা, বলছে পুলিশের পরিসংখ্যান]
আর এই বিষ ছড়ানোর সবচেয়ে সহজ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। খবর যাচাই করার দায় নেই, পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝার বাধ্যবাধকতা নেই। ফেসবুক বিপ্লবীরা রাতারাতি যুদ্ধের বাতাবরণ সৃষ্টি করার জন্য মরিয়া। এদের অধিকাংশই মুখেন মারিতং জগত। বাস্তবের মাটিতে পা না রেখে, ভার্চুয়াল পৃথিবীতে নাশকতার বিষ ছড়ানো এদের অভ্যেস। কখনও ফটোশপের কারসাজি, আবার কোথাও নির্লজ্জ তথ্যবিকৃতি। কখনও রাহুল গান্ধীর ভুয়ো ছবি, কিংবা কখনও নরেন্দ্র মোদির ছবিকে বিকৃত করে দেখানো, এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ফেসবুকের দেওয়ালে কিংবা টুইটার হ্যান্ডেলে চোখ রাখলে। মনে রাখবেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব পোস্ট ঘোরাফেরা করছে, তাঁর অধিকাংশই হয় পুরোপুরি অসত্য নাহয় আংশিক সত্য। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে, কিংবা সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য যে কেউ যা খুশি পোস্ট করে দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। হিতাহিত না ভেবে এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমও নিজেদের দায়িত্ব ভুলে এই উসকানিমূলক খবর, কিংবা প্ররোচনামূলক তথ্য সম্প্রচার করছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সচেতন করা আমাদের মতো দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
[সন্ত্রাস রুখতে একসুরে কথা বলবে দেশ, সিদ্ধান্ত সর্বদলীয় বৈঠকে]
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে সকল পাঠকদের কাছে আমাদের অনুরোধ, আপনার অহেতুক প্ররোচনায় কান দেবেন না। উসকানিমূলক পোস্ট বা মন্তব্যে প্রভাবিত হয়ে অকারণে উত্তেজনা ছড়াবেন না। সমাজের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব আমাদের, আপনাদের সকলের। তাই আমাদের অনুরোধ, আপনারা দায়িত্ববান নাগরিকের মতো নিজেদের কর্তব্য পালন করুন। সচেতন থাকুন, কোনও কিছু শেয়ার করার আগে বা কোনও মন্তব্য করার আগে সত্যাসত্য যাচাই করে নিন।