সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বায়না জুড়েছিল প্রতিবন্ধী মেয়েটা। একটু বোধহয় বেশি জেদ করছিল। কিন্তু তার মূল্য যে এভাবে তাকে নিজের জীবন দিয়ে চোকাতে হবে। আর নিজের মায়ের হাতেই এই চরম পরিণতি হবে, তা বুঝে উঠতে পারেনি বেঙ্গালুরুর ৭ বছরের বালিকা। পরপর দু’বার ছাদ থেকে ফেলে নিজের মেয়েকেই নৃশংসভাবে হত্যা করল বেঙ্গালুরুর ৩৪ বছরের মহিলা।
[রাম রহিম গারদে, কী হবে ‘ধর্মগুরু’ রামপালের?]
অভিযুক্ত মায়ের নাম স্বাতী সরকার। জানা গিয়েছে, আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা স্বাতী। গত দশ বছর ধরে স্বামীর সঙ্গে বেঙ্গালুরুতেই থাকত সে। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত সাত মাস ধরে মেয়ে ইশিকাকে নিয়ে একাই থাকত স্বাতী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ছিল ইশিকার। রবিবার কোনও কারণে মায়ের কাছে বায়না জুড়েছিল সে। আচমকা মেয়ের বায়নার অতীষ্ট হয়ে তাকে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। উপর থেকে যখন দেখে মেয়ের দেহে তখনও প্রাণ রয়েছে, আবার তাকে উপরে নিয়ে এসে নিচে ফেলে দেয়। এরপরই আবাসনের বাসিন্দারা স্বাতীকে ধরে ফেলেন। তাঁকে একটি ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে ফেলা হয়। উত্তেজিত জনতা খুনি ‘মা’কে মারধরও করে। তারপর স্বাতীকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
[ফের লাইনচ্যুত ট্রেন, এবার নাগপুর-মুম্বই দুরন্ত এক্সপ্রেস]
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সাউথ) ডি শরণাপ্পা। তিনি জানান, এমন কাণ্ড ঘটানোর পরও স্বাতীর চোখেমুখে কোনও অপরাধবোধের চিহ্ন ছিল না। পুলিশের প্রশ্নের মুখে সে জানায়, মেয়ে বড্ড বেশি বিরক্ত করছিল তাই সে এ কাজ করেছে। ইশিকার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্বাতীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বাতীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মনোবিদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
[ভণ্ড বাবার চক্রান্ত ফাঁস, হিংসা ছড়াতে নগদ ৩৮ লক্ষ টাকা ইনাম]