সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লক্ষ্য ছিল পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোদ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সংসদে দাঁড়িয়ে পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাও ২০২৪ সালের মধ্যে। কিন্তু স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবের যে বিস্তর ফারাক, তা বোঝা গেল বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে। যাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে মোট জিডিপির নিরিখে পঞ্চম স্থান থেকে সটান সপ্তম স্থানে নেমে গিয়েছে ভারত। ২০১৭ সালে যেখানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত ব্রিটেনের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছিল, সেখানে ২০১৮ সালে তা নেমে গিয়েছে ফ্রান্সেরও নিচে। অর্থনীতির এই অধোগতির পরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। রাহুলের দাবি, বিজেপি সরকার কিছু গড়তে জানে না, শুধু ভাঙতেই জানে।
[আরও পড়ুন: কাশ্মীরে অব্যাহত সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই, খতম দুই সন্ত্রাসবাদী]
২০১৮ সালে ভারতের অর্থনীতির মোট মূল্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি ডলার। সেখানে ফ্রান্সের অর্থনীতির পরিমাণ ২ লক্ষ ৭৭ হাজার কোটি ডলার। প্রথম চারে যথাক্রমে আমেরিকা (২০.৫ লক্ষ কোটি ডলার), চিন (১৩.৬ লক্ষ কোটি ডলার), জাপান (৪.৯ লক্ষ কোটি ডলার) এবং জার্মানি (৩.৯ লক্ষ কোটি ডলার)। ২০১৯ সালে অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্র রাখা হয়েছে ৩ লক্ষ কোটি ডলার। চলতি বছরের গোড়ার দিকেই বিশ্বের দ্রুততম অর্থনীতির তকমা হারিয়েছে ভারত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যেভাবে শেয়ার বাজার দিনের পর দিন ধাক্কা খাচ্ছে, বাজারে পণ্যের বিক্রিবাটা কমছে, তাতে এবছরও এই লক্ষ্যপূরণ কতটা সম্ভব তা নিয়ে সন্দিহান অর্থনৈতিক মহল।
[আরও পড়ুন: সাতসকালে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াই, ছত্তিশগড়ে খতম ৭ মাওবাদী]
অর্থনীতি যখন ক্রমাগত দুঃসংবাদ শোনাচ্ছে তখন বিরোধীরা জেগে উঠবে সেটাই স্বাভাবিক। ভোটের পর থেকে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাহুল গান্ধীও অর্থনীতির দুরবস্থাকে হাতিয়ার করে নতুন উদ্যমে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্ঠা শুরু করেছেন। লাগাতার টুইটারে তিনি আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছেন সরকারকে। শনিবারও তিনি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক নীতিকে ঘুরিয়ে কাঠগড়ায় তুললেন। টুইটে তাঁর দাবি, “বিজেপি সরকার কোনওকিছুই গড়তে পারে না। দশকের পর দশক ধরে কঠোর পরিশ্রম করে যা তৈরি হয়েছে, এরা শুধু সেটা ভাঙতে জানে।”