সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশ জুড়ে উন্নয়নের ছবি তুলে ধরতে ব্যস্ত বিজেপি নেতারা। গুজরাটে নির্বাচনী প্রচারের দিকে তাকালে মনে হয়, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি ভিন্ন দ্বিতীয় কোনও চিন্তা নেই বিজেপি নেতাদের। অথচ দেশের উলটো প্রান্তেই একবারে বিপরীত ছবি। কোথায় উন্নয়ন? একে-৪৭ হাতে তুলে নিয়ে বীরদর্পে ছবি দিলেন বিজেপি নেতা। যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
[ দেশের প্রতিটি টোল প্লাজায় স্যালুট জানাতে হবে জওয়ানদের, নির্দেশ কেন্দ্রর ]
আশিস সেরিন নামে এই নেতা জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট। এলাকায় তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি যথেষ্ট। অনুগামীর সংখ্যাও কম নয়। এহেন নেতাই হাতে একে-৪৭ নিয়ে ছবি তুললেন। সে ছবি পোস্টও করলেন ফেসবুকে। ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পুরনো ইমেজ ঝেড়ে ফেলে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর নেতৃত্বে যে নয়া বিজেপির জন্ম হয়েছে, তার সঙ্গে কখনওই মানানসই নয় এ ছবি। মত শাসকদলেরই নেতাদের একাংশের। উন্নয়ন, দেশের সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশকে প্রতিষ্ঠা- এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর কথা প্রচার করছে কেন্দ্রীয় শাসকদল। নির্বাচনের মুখে বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় ইস্যুতে চাপানউতোর থাকলেও, মোটের উপর এটাই এখন দলীয় ভাবমূর্তি। উন্নয়নই সেখানে শেষ কথা। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়াই স্থির লক্ষ্য। সেখানে বন্দুক-সংস্কৃতির কোনও জায়গা নেই। অথচ সেই বিজেপি নেতারই হাতে বন্দুক। তাও জম্মু-কাশ্মীরের মতো জায়গায়। এরকম ছবি হাতে পেয়ে চেপে ধরেছে বিরোধীরা। অনেকেই বলছেন, বিজেপির মুখ ও মুখোশের ফারাকটা আর গোপন থাকছে না।
[ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে লাগাতার যৌন হেনস্তা, গ্রেপ্তার প্রধানশিক্ষক ]

এদিকে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই ছবি মারাত্মক কুপ্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। এমনিতেই অশান্ত উপত্যকা। একদিকে জঙ্গি হানা, অন্যদিকে জেহাদিদের মগজধোলাই। ফলে সহজেই তরুণ প্রজন্ম হাতে বন্দুক তুলে নিচ্ছে। এখন জনপ্রিয় নেতার হাতে যদি বন্দুক দেখা যায়, তাহলে তরুণরা আরও তা হাতে তুলে নিতে আগ্রহী হবে। বিজেপি নেতা নিজের বীরত্ব হয়তো প্রচার করতে চেয়েছেন। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হবে। নেতার অনুগামীরা সকলেই একই বীরত্ব প্রদর্শন করতে চাইলে কাশ্মীর অশান্ত হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া এই একে-৪৭’এর কারণে কাশ্মীরে অহরহ প্রাণহানি। তাই বন্দুক বা বন্দুক-সংস্কৃতি থেকে কাশ্মীরকে ক্রমশ মুক্ত করা প্রয়োজন। অপরপক্ষে বন্দুক হাতে ছবি দিয়ে তাকেই গৌরবাণ্বিত করার চেষ্টা করছেন বিজেপি নেতা। অভিযোগ উঠেছে নানা মহলে।
[ আপনার আধার কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? ধরে ফেলুন নিজেই ]
যদিও এ নিয়ে দলীয় তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে এই প্রথমবার নয়। এর আগেও নেতাদের হাতে উঠেছিল বন্দুক। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিধায়ক জাভেদ মীর আলিকেও জওয়ানের সঙ্গে বন্দুক হাতে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল।