সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক ছিল কংগ্রেসের। সোভিয়েত থেকে মিলত তহবিলও। সোমবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একটি রিপোর্ট তুলে ধরে এমনই অভিযোগ করলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। তাঁর অভিযোগ, সোভিয়েত যুগে ১৫০-এর বেশি কংগ্রেস সাংসদ রুশ টাকায় ‘পুষ্ট’ হয়েছেন। এমনকী, সেই অর্থের বিনিময়ে ভারতে রুশ গোয়েন্দাদের অবাধ যাতায়াতের অলিখিত অনুমোদন দিয়েছিল কংগ্রেস সরকার।
নিজের নিজের এক্স হ্যান্ডলে নিশিকান্ত লিখেছেন, ‘কংগ্রেস দুর্নীতি ও দাসত্বের রাজ। ২০১১ সালে সেই নিয়ে সিআইএ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। যাতে তারা জানিয়েছিল, কীভাবে কংগ্রেস জমানায় হরিকৃষ্ণলাল ভগৎ-সহ ১৫০ জন কংগ্রেস সাংসদ সোভিয়েত রাশিয়ার থেকে আর্থিক অনুদান হাঁকাত।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এই অনুদানের তালিকায় শুধু সাংসদরাই নয়। ছিলেন বহু কংগ্রেস-ঘেঁষা সাংবাদিকও। যারা অর্থের বিনিময়ে রাশিয়ার হয়ে খবর প্রকাশ করত।
পাশাপাশি, এ ছাড়াও হাজারের অধিক কেজিবি গোয়েন্দা এই সময়কালে ভারতের অভ্যন্তরে অবাধ যাতায়াত করত। প্রশাসন থেকে পাড়ার নেতা, সবাইকে নিজেদের পকেটে রাখত এই গোয়েন্দারা।’ এর পরেই আরও এক স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিশিকান্ত বলেন, “সুভদ্র যোশী, জার্মান সরকারের থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরাজিত হয়ে ইন্দো-জার্মান ফোরামের সভাপতি হয়ে যান। ভারত কি কোনও দাস? কংগ্রেস উত্তর দিক।”
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঠান্ডা যুদ্ধ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তীব্র ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার যুগ। উভয় পরাশক্তিই বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ, সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ভারতের আনুগত্য অর্জনের জন্য আগ্রহী ছিল। ঝুঁকি বেশি ছিল, কারণ ভারতের জোটবদ্ধ পুঁজিবাদ এবং কমিউনিজমের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আদর্শগত সংগ্রামে ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। আর এর ফলে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ষড়যন্ত্রের একটি জটিল জাল তৈরি হয়েছিল, উভয় দেশই ভারতকে তাদের পক্ষে আনার জন্য তাদের গোয়েন্দা মোতায়েন করেছিল।