সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাভাষীদের বেছে বেছে আক্রমণ! সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগে সরব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পালটা জবাব দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, “অসম ভাষার ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে লড়ছে না। আমাদের লড়াই বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে। আমাদের লড়াই নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার।”
শনিবার সকালেই অসমে বাঙালি হেনস্তার অভিযোগে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “দেশে দ্বিতীয় কথ্য ভাষা হল বাংলা। অসমেও তাই। যাঁরা সমস্ত ভাষা ও ধর্মকে সম্মান করেন তাঁদের উপর শুধুমাত্র মাতৃভাষার জন্য হেনস্তা করা অসাংবিধানিক এবং বৈষম্যমূলক আচরণ। অসমে বিজেপির বিভেদমূলক অ্যাজেন্ডা সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। অসমবাসী রুখে দাঁড়ান। যাঁরা মাতৃভাষার জন্য, নিজের পরিচয়রক্ষার লড়াই করছেন আমি তাঁদের মতো প্রত্যেক নির্ভীক মানষের পাশে আছি।”
Didi, let me remind you—
In Assam, we are not fighting our own people. We are fearlessly resisting the ongoing, unchecked Muslim infiltration from across the border, which has already caused an alarming demographic shift. In several districts, Hindus are now on the verge of… https://t.co/mwqs398RKE
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) July 19, 2025
সঙ্গে সঙ্গে মমতার ওই অভিযোগের পালটা দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলছেন, “প্রিয় দিদি, অসমে আমরা নিজেদের মানুষের বিরুদ্ধে লড়ছি না। আমাদের লড়াই বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে যা বিপজ্জনকভাবে জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে।” অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “ইতিমধ্যেই সে রাজ্যের একাধিক জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ার পথে। হিমন্তর দাবি, এটা রাজনীতির বিষয়ই নয়। আমরা আমাদের ভূমি, সংস্কৃতি এবং অস্মিতা রক্ষা করার জন্য লড়াই করছি। তাঁর বক্তব্য, “আমরা ভাষার ভিত্তিতে মানুষের বিভেদ করি না। এখানে অসমীয়া, বাংলা, হিন্দি, বোড়ো সব ভাষার সহাবস্থান রয়েছে।”
অসমের মুখ্যমন্ত্রী এরপরই পালটা নিশানা করেছেন তৃণমূল নেত্রীকে। মমতাকে উদ্দেশ করে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, অসম যেখানে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে অসমের অস্মিতার জন্য লড়ছি। আপনি সেখানে বাঙালি অস্মিতার সঙ্গে আপস করছেন। শুধু ভোটব্যাঙ্কের জন্য অনুপ্রবেশে উৎসাহ দিচ্ছেন। ভোটব্যাঙ্কের জন্য একটি ধর্মের তোষণ করে চলেছেন। হিমন্তর দাবি, অনুপ্রবেশ নিয়ে এই নীরবতা জাতীয় সংহতির বিরুদ্ধে।