সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানিকে দু’বছর আগে আজকের দিনেই খতম করেছিল ভারতীয় সেনা। আজ সেই কারণেই বন্ধ রয়েছে অমরনাথ যাত্রা। জানানো হয়েছে, জঙ্গি খতমের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আবার কোনও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। নিরাপত্তার খাতিরে কাশ্মীরে আজ বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। জারি হয়েছে কার্ফিউ।
নিরাপত্তার খাতিয়ে রবিবার সকাল থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অমরনাথ যাত্রা। জম্মু, বালতাল ও পহেলগাঁও থেকে পুণ্যার্থীদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও কোনও জায়গায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রেল পরিষেবা। জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন রবিবার গোটা উপত্যাকাকেই কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। তরাল শহরে মোতায়েন হয়েছে কার্ফিউ। এখানেই ছিল বুরহান ওয়ানির বাড়ি। এছাড়া পুলওয়ামা, কুলগাঁও, অনন্তনাগ ও সোপিয়ানেও জারি হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
[ চিনচোটি জলপ্রপাতে আটকে পরা পর্যটকদের উদ্ধারে সেনা, মুম্বইয়ে অব্যাহত বৃষ্টি ]
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল এস পি বৈদ্য জানিয়েছেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। অমরনাথের পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া কাশ্মীরে একটি বনধ ডাকা হয়েছে। বুরহান ওয়ানিকে হত্যার দু’বছর পূর্ণ হওয়ার জন্য এই বনধ ডেকেছে উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। অমরনাথ যাত্রা স্থগিত রাখার এটিও অন্যতম কারণ। তবে শনিবার পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কাশ্মীরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি।
[ স্বয়ং রামও রুখতে পারতেন না ধর্ষণ, কুরুচিকর মন্তব্য করে বিতর্কে বিজেপি বিধায়ক ]
২০১৬ সালের ৮ জুলাই কোরেরনাগের অনন্তনাগে হিজবুল জঙ্গি বুরহান ওয়ানিকে হত্যা করে ভারতীয় সেনা। হত্যার পর জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতিবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা উপত্যকায় মোতায়েন করা হয়েছিল কার্ফিউ। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে লড়াইয়ে কমপক্ষে ৮৫ জন নিহত এবং হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। প্রায় চার মাস ধরে চলেছিল এই পরিস্থিতি।