সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে অপারেশন সিঁদুরের জয়গান করতে গিয়ে নিজের দল কংগ্রেসের রোষানলে পড়েছেন সাংসদ শশী থারুর। পবন খেরা, উদিত রাজ, জয়রাম রমেশের মতো কংগ্রেসের নেতারা খড়গহস্ত হয়েছেন শশীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার মাঝেই এবার মুখ খুললেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ। বুঝিয়ে দিলেন, দেশের মাটিতে তাঁকে নিয়ে যে আলোচনা সমালোচনা চলছে সে সবে গুরুত্ব দিতে একেবারেই নারাজ তিনি।
পানামা, গায়ানা এবং কলম্বিয়া সফরের পর রবিবার ব্রাজিলে পৌঁছেছেন শশী থারুর এবং তার প্রতিনিধিদল। সেখানেই ভারতে কংগ্রেসের অন্দরে তাঁকে নিয়ে চলতে থাকা ডামাডোল প্রসঙ্গে শশী বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবেই। কিন্তু আমার মনে হয় ওইসব সমালোচনা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় এটা নয়। এই মুহূর্তে আমার প্রধান লক্ষ্য গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের অবস্থান তুলে ধরা এবং সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানের স্বরূপ পৃথিবীর সামনে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্য পূরণ করার পর আমি ভারতে ফিরব, তখন অবশ্যই আমার দলীয় সহকর্মী, সমালোচক এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব। তবে এই মুহূর্তে আমার যা কাজ সেদিকেই মনোনিবেশ করছি।”
সম্প্রতি কেন্দ্রের সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের নেতা হিসাবে আমেরিকায় শশী থারুর বলেন, “কয়েকজন মহিলা কেঁদে কেঁদে জঙ্গিদের অনুরোধ করেছিলেন তাঁদেরও যেন হত্যা করা হয়। কিন্তু জঙ্গিরা বলেছিল এই হামলার কথা সকলকে জানাতে। আমরা সেই মহিলাদের কান্না শুনেছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যে লাল রঙের সিঁদুর আমাদের মহিলাদের কপাল থেকে মুছে গিয়েছিল, সেই লাল রঙের রক্তই ঝরানো হবে জঙ্গিদের দেহ থেকে।” সেই প্রসঙ্গেই কংগ্রেস সাংসদের বলেন, অতীতে কখনও নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোয়নি ভারত।
তাঁর সেই মন্তব্যের পরই দলের অন্দরে ক্ষোভের মুখে পড়েন শশী। হাত শিবিরের নেতা উদিত রাজ বলেন, “উনি তো বিজেপির সুপার মুখপাত্র। প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের সমর্থনে উনি যত কথা বলেছেন ততটা বিজেপি নেতারাও বলেননি।” আবার আরেক সিনিয়র নেতা পবন খেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন নিজের ‘দ্য প্যারাডক্সিক্যাল প্রাইম মিনিস্টার’ বইতেই শশী দাবি করেছিলেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কংগ্রেস আমলেও হয়েছিল কিন্তু সেটা নির্বাচনী ফায়দা তুলতে ব্যবহার করা হয়নি। সবমিলিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মোটেই খুশি নয় শশীর উপরে। এমনিতেই তাঁকে কংগ্রেস নয়, মোদি সরকারই বেছে নিয়েছে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের নেতা হিসাবে। তার উপর মোদি সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠা শশীতে অস্বস্তি বেড়েছে হাত শিবিরের। যদিও সেসবকে খুব বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শশী।