সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রহস্যময় পার্সেল! অর্ডার না করলেও বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে বীজ (Seeds) ভরতি পার্সেল। আর এই বীজেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ানক বিপদ। নষ্ট হয়ে যেতে পারে জীব বৈচিত্র্য। এমনকী, করোনার (Corona Virus) থেকেও মারাত্মক কোনও জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তা নিয়ে আগেভাগেই দেশবাসীকে সতর্ক করল কেন্দ্র। রহস্যময় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক।
কিছুদিন ধরেই ই-কমার্স সাইট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে রহস্যময় পার্সেল। অথচ প্রাপক তা অর্ডারই করেননি। আর পার্সেল খুললে দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে একাধিক বীজ। কোনওটা ফুলের কোনওটা ফলের আবার কোনওটা আবার চেনাজানা সরষের বীজ। কিন্তু কে এমন পার্সেল পাঠাচ্ছে? তাঁর উদ্দেশ্যই বা কী? ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা. জৈব অস্ত্রে শান দিচ্ছে শত্রুরা। ওই পার্সেল আসলে কোনও জৈব অস্ত্র! তাই কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সন্দেহজনক বা অবৈধ কোনও পার্সেল সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখনই একে জৈব অস্ত্র বলতে নারাজ কৃষি বিশেষজ্ঞরা। যেমন ভারতের বীজ শিল্প ফেডারেশনের ডিরেক্টর রাম কৌদিন্য বলেন, “বীজের মাধ্যমে অন্যান্য গাছপালার মধ্যে রোগ ছড়াতেই পারে। তবে একে বায়ো টেরিরিজম বা জৈবি সন্ত্রাস বলা যাবে না। এই জাতীয় পার্সেলের মাধ্যমে আসা বীজগুলি থেকে এমন আগাছা জন্মাতে পারে, যা ভারতের স্থানীয় শস্য এবং গাছপালার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।”
[আরও পড়ুন : নজরে চিন, এবার ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে রাশিয়াকে দলে টানতে তৎপর ভারত]
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের (Agriculture MInistry) এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে এই জাতীয় সন্দেহজনক বীজ ভরা হাজার-হাজার পার্সেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, জাপান এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ এই ধরণের পার্সেল থেকে বিপদের মুখে পড়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ বা ইউএসডিএ। আমেরিকার তরফে এটিকে ‘ব্রুসিং স্ক্যাম’ বা ‘কৃষি চোরাচালান’ বলা হচ্ছে। তাদের কথায়, এই সন্দেহজনক বীজের মধ্যে এমন কিছু বীজ বা রোগজীবাণু থাকতে পারে যা পরিবেশ, কৃষিকাজ এবং জাতীয় সুরক্ষার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। যা দেশকে সরাসরি দুর্ভিক্ষের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে । সেই ক্ষেত্রে জাতীয় সুরক্ষাও বিঘ্নিত হবে। তাই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভারতের সমস্ত রাজ্যের কৃষি বিভাগ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বীজ সমিতি, বীজ শংসাপত্র দানকারী সংস্থাগুলি, বীজ কর্পোরেশন এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এবং এর ইনস্টিটিউটগুলিকে এই জাতীয় সন্দেহজনক পার্সেল থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে।