সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পেটের জ্বালা বড় জ্বালা। দু মুঠো অন্নের জন্যই এত পরিশ্রম। সেই অন্নের জোগানেই যদি ভাটা পড়ে তখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে দ্বিধাবোধ করে না মানুষ। করোনার সংক্রমণ ও লকডাউনের ভয়ে কাজ হারিয়ে ভিন রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশে বাড়ি ফিরেছিলেন বহু পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Labour)। তবে পেটের টানে তাঁদের ফের ঘর ছেড়ে ফিরে যেতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে।
উত্তরপ্রদেশ (UttarPradesh), আয়তনে রাজ্যটি দেশের মধ্যে সবথেকে বড়। আয়তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যাটাও নেহাত মন্দ নয়। লকডাউনের মাঝেই প্রায় ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক বেকার হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। আশা ছিল এবার রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করবে সরকার। কিন্তু কোথায় কী! পেটের টানে সেই তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে ভিন রাজ্যে। তাই তাঁদের কাছে এখন খিদের জ্বালায় মরার চেয়ে ভাইরাস সংক্রমণকেই শ্রেয় বলে হচ্ছে। গোরক্ষপুর থেকে বিশেষ ট্রেন যাচ্ছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের উদ্দেশ্যে। সেই ট্রেনেই যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা।
[আরও পড়ুন:“লকডাউনের জন্যই ‘সফল’ ভারত”, প্রবাসী চিকিৎসকদের সমাবেশে দাবি প্রধানমন্ত্রীর]
খোরশেদ আনসারি (Khursheed Ansari) নামে এক শ্রমিকের কথায়, “ভিন রাজ্যে আমার সংস্থা এখনও বন্ধ। তাই একমাস আগে গ্রামে ফিরেছি। এখন নতুন কাজের খোঁজে আবার মুম্বই যাচ্ছি। যদি আমার রাজ্যে কর্মসংস্থান থাকত, তাহলে আবার মুম্বই ফিরতাম না। তাই খিদের থেকে এখন করোনা ভাইরাসকেই ভাল বলে মনে হচ্ছে।” আরেক পরিযায়ী শ্রমিক দিবাকর প্রসাদের (Dibakar Prasad) কথায়, ” করোনা নিয়ে আমি ভীত, কিন্তু তার চেয়ে বেশি ভীত গ্রামে থাকতে। নিজে কী খাব? পরিবারকে কী খাওয়াবো? সেই ভেবেই দিনরাত চিন্তা হচ্ছে।”
[আরও পড়ুন:মৃত্যুর আগে রিপোর্ট নেগেটিভ, পরে করোনা পজিটিভ! হতবাক রোগীর পরিবার]
অন্যদিকে, সরকারি তরফে মনরেগা প্রকল্পের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ভিন রাজ্যে থেকে উত্তরপ্রদেশে ফেরা শ্রমিকদের। পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্পে প্রায় ৬০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে শনিবার দাবি করে যোগী সরকার। কিন্তু তারপরেও অব্যাহত পরিযায়ী শ্রমিকদের দিল্লি, মুম্বই, সুরাট ফেরার ঢল।