সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাত্র তিন মিনিটে ভিডিও কলে চাকরি হারিয়েছিলেন উবের কোম্পানির সাড়ে তিন হাজার কর্মী। ঠিক তার পরের দিনই শোনা যায় করোনার জেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোম্যাটোও (Zomato)। এবার খরচ কমাতে একই পথে হাঁটল আরেক অনলাইন খাবার ডেলিভারি সংস্থা Swiggy। সোমবারই কোম্পানির তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হাজারেরও বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করা হবে।
যতদিন যাচ্ছে, নিজের দাপট বাড়াচ্ছে মারণ করোনা ভাইরাস। কেড়ে নিচ্ছে মানুষের রুজি-রুটি। একটা করে ভিডিও কল, আর তাতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে উপার্জনের পথ। অসহায়তা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে ওই চাকরিহারা মানুষগুলিকে। হাজার-হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে একটা অদৃশ্য ভাইরাস। এবার তালিকায় সুইগির কর্মীরাও। কোম্পানির ব্লগ অনুযায়ী, কর্মীদের ই-মেল করে বরখাস্ত করতে চলার খবর জানানো হয়েছে। সিইও তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীহর্ষ মেজতি লেখেন, “আজ Swiggy-র জন্য একটি অত্যন্ত দুঃখের দিন। কারণ আমরা কর্মী সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন শহর এবং হেড অফিসের ১ হাজার ১০০ জনকে আমরা বরখাস্ত করতে চলেছি। এর মধ্যে সমস্ত বিভাগের কর্মীরাই রয়েছেন।”
[আরও পড়ুন: জায়গা পেয়েও হল না ফেরা, মুম্বই থেকে হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারলেন না ৬০০ শ্রমিক]
করোনা সহজে বিদায় নেওয়ার নয়। তাই ডেলিভারি পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সন্দিহান কোম্পানি। সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত। শুধু তাই নয়, খাবার ডেলিভারি ছাড়াও আর যে সমস্ত ব্যবসার সঙ্গে সুইগি যুক্ত, তার মধ্যেও কিছু বন্ধের চিন্তাভাবনা করছে তারা। আগামী দেড় বছর যে ব্যবসা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলেও জানান সিইও। ক্লাউড কিচেন ব্যবসা সাময়িক অথবা প্রয়োজনে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছে
কোম্পানি।
২০১৪ সালে নিজেদের সফর শুরু করেছিল সুইগি। কয়েক বছরেই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তারা। প্রায় ৫০০টি জায়গায় ১ লক্ষ ৬০ হাজারটি রেস্তরাঁর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করে তারা। তবে করোনা মহামারি গোটা ছবিটা বদলে দিল। সংস্থা জানিয়েছে, বরখাস্ত করা কর্মীদের আগামী তিন মাসের বেতন দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বছরভর থাকার জন্য একমাসের অতিরিক্ত বেতনও পাবেন তাঁরা।