সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় গাজা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যা ভয়ংকর রূপ নেবে। রবিবার এমনই আশঙ্কার কথা জানাল কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।
হাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সংলগ্ন উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়। তাই এসব এলাকায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইএমডি-র তরফে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩৬ ঘণ্টায় এই ঘূর্ণিঝড় শক্তি বৃদ্ধি করে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রভাব পড়তে পারে তামিলনাড়ুর উত্তর উপকূল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণের এলাকাগুলিতে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা এই এলাকাতেই ঘোরাফেরা করবে ‘গাজা’। ১৫ নভেম্বরের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে তা ঘুরে গেলে ধীরে ধীরে এর শক্তি কমবে।
[নামবদল ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে, এবার যোগীকে বিঁধলেন তাঁরই মন্ত্রিসভার সদস্য]
এমন সময় ঘূর্ণিঝড়ের কারণ হিসেবে আবহাওয়া দপ্তরের ব্যাখ্যা, শনিবার সন্ধেয় বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। তারপর রবিবার সকালে ঘনীভূত হওয়া এই নিম্নচাপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যায়। ওই এলাকাতেই সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ঘুরপাক খায় ঘূর্ণিঝড়টি। পোর্ট ব্লেয়ারের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে ৪৬০ কিমি বেগে তা ধেয়ে যায়। তবে এর প্রকোপ আরও বাড়ে তামিলনাড়ুর চেন্নাই (৯৩০ কিমি) ও অন্ধ্রের শ্রীহরিকোটায় (৯৮০ কিমি)। এর জেরে এসব এলাকায় আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়ে দিল হাওয়া অফিস। রবিবার আন্দামানের একাধিক জায়গাতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে খবর। তবে তা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। ইতিমধ্যেই এই সমস্ত উপকূলে মৎস্যজীবীদের যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর আগে আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছিল, এ রাজ্যে ধেয়ে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। যাতে পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার সম্ভাবনায় মন খারাপ হয়েছিল রাজ্যবাসীর। তবে সৌভাগ্যবশত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় তিতলির প্রকোপ পড়েনি। কিন্তু এবার ঘূর্ণিঝড় গাজার খবরে আতঙ্কিত আন্দামান ও দক্ষিণের দুই রাজ্যের বাসিন্দারা।