Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Deendayal Upadhyaya

মুঠোয় ধরা ৫ টাকা, স্টেশনের কাছেই উপুড় দেহ! দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে আজও রহস্য

ঠিক কী হয়েছিল সেই রাতে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫, ২০:৫৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৫, ২০:৫৪

options
link
মুঠোয় ধরা ৫ টাকা, স্টেশনের কাছেই উপুড় দেহ! দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে আজও রহস্য zoom

বিশ্বদীপ দে: মধ্যরাত। ঘড়ির কাঁটা পেরিয়ে গিয়েছে দুটোর ঘর। একটু আগে জৌনপুরেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু ট্রেন মুঘলসরাই স্টেশনে পৌঁছতেই দেখা গেল তিনি নিরুদ্দেশ। কোথায় গেলেন পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়? কিছু পরেই আবিষ্কৃত হয় তাঁর প্রাণহীন দেহ। সদ্য ৫৭ বছর পেরল সেই ঘটনার। আজও রহস্যে ঘেরা আজকের বিজেপির পূর্বসূরি ভারতীয় জনসংঘের অগ্রদূতের প্রয়াণ। ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? কেন হদিশ মিলল না সাড়ে পাঁচ দশকে?

১৯১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মথুরা জেলার নাগলা চন্দ্রবনে জন্ম তাঁর। ‘অখণ্ড মানবতাবাদে’র প্রবক্তা মানুষটি ভারতীয় রাজনীতির এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। আরএসএসের হয়েই তাঁর রাজনীতিতে হাতে খড়ি। নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক ও চিন্তাবিদ হিসেবে প্রথম থেকেই পেয়েছিলেন গুরুত্ব। এর মধ্যেই ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হল হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনসংঘ। আরএসএসের সঙ্গে ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দলটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে ছিলেন দীনদয়ালও। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দল স্বনির্ভরতা, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং গ্রামীণ উন্নয়নের দিকে ফোকাস করতে পেরেছিল। আজ দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে যে ‘আত্মনির্ভরতা’র কথা শোনা যায় বলতে গেলে দীনদয়ালের দর্শনও ছিল তেমনই। ১৯৬৭-৬৮ সালে তাঁকে সামলাতে হয়েছিল দলের সভাপতির দায়িত্ব। রহস্যময় কুয়াশা জীবনের উপরে পর্দার মতো মৃত্যু হয়ে আচমকা দুলে ওঠার পর যে দায়িত্ব দেওয়া হয় অটলবিহারী বাজপেয়ীকে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

৫১ বছরের দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যু ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৮ সালে। যে মৃত্যুর রহস্য আজও ভেদ করা যায়নি। আরেকবার ফিরে দেখা যাক সেই রাতকে। এশিয়ার বৃহত্তম রেল ইয়ার্ড মুঘলসরাই। যা আজকের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্টেশন। সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্টেশন দিয়ে দৈনিক দেড় হাজার ওয়াগন যাতায়াত করে। সেই সময়ও তা ছিল ব্যস্ত এক জংশন। সেই স্টেশনেরই অব্যবহিত দূরে উদ্ধার হয় দীনদয়ালের দেহ। প্ল্যাটফর্মের শেষ অংশ থেকে 8৪৮ ফুট দূরে ট্র্যাকশন খুঁটির কাছে পড়েছিল তাঁর নিষ্প্রাণ শরীর। হাতে ধরা পাঁচ টাকার একটা নোট। দেহ পড়ে রয়েছে উপুড় অবস্থায়।

লখনউ থেকে পাটনা যাচ্ছিলেন। শিয়ালদহ এক্সপ্রেসে। জৌনপুরেও দেখা গিয়েছে তিনি অক্ষত ও সম্পূর্ণ সুস্থ। তাহলে আচমকাই ওই স্টেশনে এসে কী ঘটল? কেনই বা ট্রেন থেকে নামতে যাবেন তিনি? তাঁর গন্তব্য তো তখনও অনেক দূরে। রহস্য ক্রমেই জট পাকাতে থাকে। এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ কী? সিবিআইকে দেওয়া হল তদন্তভার।

তদন্তশেষে কেন্দ্রীয় অনুসন্ধানকারী সংস্থা জানিয়েছিল, দীনদয়ালকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ট্রেন থেকে। কিন্তু কেন? গোয়েন্দাদের দাবি, ব্যাপারটা নিছকই ডাকাতির ঘটনা। যার শিকার হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর কবলে পড়তে হয়েছিল দীনদয়াল উপাধ্যায়কে। ভারত লাল ও রাম আওয়াধ নামের দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। যদিও শেষপর্যন্ত তাঁদের খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যথেষ্ট প্রমাণ না মেলায়। কিন্তু সিবিআইয়ের এহেন তদন্তে খুশি ছিল না সাধারণ মানুষ। জনতার দাবি ছিল, যদি ছিনতাইবাজের হাতেই মৃত্যু হয়ে থাকে তবে সেটা আদালতে প্রমাণ করা গেল না কেন। কেবল জনরোষই নয়, সংসদেও ৭০ জন সাংসদ এই দাবি তুলে ধরেন। বিচারপতি ওয়াই ভি চন্দ্রচূড়েক নেতৃত্বে এরপরই গঠিত হয় একটি কমিশন। কিন্তু কমিশনও নতুন কোনও দিকে আলো ফেলতে পারেনি। তাদেরও দাবি ছিল, ছিনতাইবাজের কবলে পড়েই প্রাণ গিয়েছে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের।

রহস্য আজও একই রকম কুয়াশাচ্ছন্ন। অনেকেরই দাবি, বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক ‘মোটিভ’ ছিল। আর সেই সংক্রান্ত যা কিছু প্রমাণপত্র সব সময়মতো সরিয়ে ফেলেছিল। তবে এই দাবি আজও দাবিই হয়ে রয়ে গিয়েছে। মেলেনি কোনও অকাট্য প্রমাণ। ফলে ৫৭ বছর আগের সেই রাতে ঠিক কী হয়েছিল তা আজও অজানা রয়ে গিয়েছে।

দীনদয়াল উপাধ্যায় আজও এক স্মরণীয় নাম। কেবল মুঘলসরাই স্টেশনটিই যে তাঁর নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে তাই নয়। বহু সরকারি প্রকল্পও তাঁর নামে। যেমন দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল্যা যোজনা, দীনদয়াল উপাধ্যায় জ্যোতি যোজনা। ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চালু হয় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় স্মৃতি কেন্দ্র। উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উন্মোচিত হয় ৬৩ ফুটের মূর্তিরও।

আজও ভারতীয় রাজনৈতিক আঙিনায় দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামটি এভাবেই থেকে গিয়েছে সমারোহে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুরহস্যের কুয়াশা একই রকম নিরবিচ্ছিন্ন। কোনওদিন সেই রহস্যের ভেদ হবে, এই আশা তাঁর আপনজনদের। ২০১৭ সালে প্রয়াত রাজনীতিবিদের ভাগ্নি ও অসংখ্য রাজনৈতিক নেতারা সেই হত্যারহস্যের সমাধানে নতুন তদন্তের দাবি করেছিলেন। দেখার, কোনওদিন সেই কুয়াশায় আলো পড়ে কিনা।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'নজরে নবান্ন' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.