সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নেটদুনিয়ায় বন্ধুত্বের হাতছানি। বন্ধু পাতিয়ে প্রাণ গেল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়ার। বুধবার রাতে দিল্লির দ্বারকা এলাকায় নালা থেকে বছর বাইশের ওই পড়ুয়াদের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন দশেক আগে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল নিহত পড়ুয়ার। ঘটনার দিন দিল্লির রেস্তরাঁয় দু’জনের বচসা হয়। এরপরই খুন হয়ে যান ওই পড়ুয়া। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে সে।
[কাশ্মীরে বাড়িতে ঢুকে পুলিশ অফিসারকে হত্যা করল জঙ্গিরা]
গত ২২ মার্চ নিখোঁজ হয়ে যান দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের পড়ুয়া আয়ুষ নৌটিয়াল। বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। ঘটনায় স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেছিলেন পরিবারের লোকেরা। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপ করে আয়ুষের মুক্তির জন্য ৫০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। এমনকী, ওই পড়ুয়ার হাত-পা বাঁধা একটি ছবিও পাঠিয়েছে অপহরণকারীরা। তদন্তে নামে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার অজয় চৌধুরী জানিয়েছেন, অপহরণকারীরা আয়ুষের পরিবারের লোকেদের উত্তমনগর এলাকায় গিয়ে টাকা দিতে আসতে বলেছিল। সেইমতো গত সোমবার অপহরণকারীদের ধরার জন্য সাধারণ পোশাকে সেখান যান পুলিশকর্মীরা। কিন্তু, সেদিন কেউ আসেনি। এই ঘটনার ঠিক দু’দিন পর, বুধবার দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি নালা থেকে আয়ুষ নৌটিয়ালের দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই গোটা ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়।
[প্রেমিকার বাগদানের খবরে ক্ষিপ্ত, ছাত্রীর গায়ে আগুন দিল কিশোর]
তদন্তে জানা যায়, খুন হওয়ার আগে ১০ দিনে তিনবার ইশরাত আলি নামে এক ব্যক্তি সঙ্গে তিনবার দেখা করেছিলেন দিল্লির বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পড়ুয়ারা। এমনকী, ঘটনার দুপুরেও দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি রেস্তরাঁয় দু’জনকেই দেখা গিয়েছিল। যেখান থেকে আয়ুষের দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেখান থেকে ওই রেস্তরাঁর দুরত্বও খুব বেশি নয়। তদন্তকারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন রপ্তানিকারী সংস্থার স্যাম্পেল ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে ইসরাত আলি। ঘটনার মাত্র দিন দশেক আগে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া আয়ুষ নৌটিয়ালের। ইসরাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত জানিয়েছে, ২২ মার্চ রাতে রেস্তরাঁয় আয়ুষের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। এরপরই ওই পড়ুয়াকে খুন করে সে। তবে এই ঘটনা নিয়ে নিহতের পরিবারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
[ধর্ম-জাতির উল্লেখ না করেই স্কুলে ভরতি ১.২৪ লক্ষ পড়ুয়া]