সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “ছুটে এলুম রথ দেখতে, বেলা হয়ে গেল/রথের নেই দেখা। চাকার নেই শব্দ।” আশঙ্কা এমনটাই ছিল। আদতে রথ দেখা হবে তো? কারণ রবিবার পুণ্য রথযাত্রা। তার তিনদিন আগে বৃহস্পতিবার আচমকাই ভেঙে গেল সুভদ্রার রথ ‘দর্পদলন’–এর চাকা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল পুরীর মূল মন্দির চত্বরে। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই আশ্বস্ত করেছে ওড়িশা প্রশাসন। জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে স্বমহিমায় ফিরবে ‘দর্পদলন’। কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে না রথযাত্রায়।
[ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপল আফগানিস্তান, মৃত বহু]
রথযাত্রা উপলক্ষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রস্তুতি তুঙ্গে পুরীধামে। প্রতিদিনের মতোই বৃহস্পতিবার সকালেও চূড়ান্ত ব্যস্ততা ছিল মূল মন্দির চত্বরে। রথযাত্রার আগে মন্দিরের কাছাকাছি রথ যেখানে মেরামত করা হয়, সেখানেই ঘটে অঘটনটি। হঠাৎই ভেঙে যায় ‘দর্পদলন’–এর সামনের চাকার রোলার। ঘটনাটি নজরে পড়ে ‘মহারানা’দের। এই ‘মাহারানা’-রাই রথ মেরামতের কাজে যুক্ত থাকেন। রোলার ভেঙে যাওয়ায় পুরনো চাকাটি আর রথে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানান নন্দীঘোষ রথের প্রধান মহারানা বিজয় মহাপাত্র। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ভিড় জমে জনতার। চিন্তার ভাঁজ পড়ে তাঁদের কপালেও।
[পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাটিং নিতে চেয়েছিলেন কুম্বলে, শোনেননি কোহলি]
তবে দুর্ঘটনার কিছু পরেই মন্দিরে চলে আসেন জেলাশাসক। বেলা বাড়ার আগেই তড়িঘড়ি শুরু হয়ে যায় মেরামতের কাজও। মেরামত চলাকালীন আপাতত লোহার চেন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে রোলারটি। শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসজেটিএ) ও পুরী জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, খুব তাড়াতাড়িই নতুন চাকার ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই তার কাজ শুরু করে দিয়েছেন মহারানা–সহ প্রশাসনের তরফে পাঠানো কারিগররা। মন্দিরের অন্যতম প্রধান পুরোহিত জগন্নাথ দ্বৈতাপতি বলেন, “রথের চাকা যে রোলারে ঘোরে তা ভেঙেছে ঠিকই। কিন্তু রথযাত্রার আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আগের বারও এরকম হয়েছিল।” প্রসঙ্গত, সুভদ্রার এই রথে ১২টি চাকা থাকে। তার মধ্যে সামনের চাকাটির রোলার ভেঙে যায়। চাকা ভাঙার কারণ জানা যায়নি।