সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির বুরারি কাণ্ডের ছায়া মধ্যপ্রদেশে! সেই দিনও ছিল জুলাই। এখন চলতি বছরের জুলাই মাস। মধ্যপ্রদেশে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা একই পরিবারের চারজনের। তাদের মধ্যে রয়েছে দুই নাবালক। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম মনোহর লোধি, শিবানী লোধি (১৮), অঙ্কিত লোধি (১৬), ফুলরানি লোধি (৭০)। শিবানী ও অঙ্কিত মনোহরের সন্তান। ফুলরানিদেবী মনোহরের মা। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে তিহার গ্রামে।
মৃত মনোহরের ভাই নন্দরাম লোধি জানিয়েছেন, শনিবার ভোররাত আনুমানিক ৩টে নাগাদ তিনি মনোহরের বমি করার শব্দ শুনতে পান। ছুটে এসে দেখেন ঘরের মেঝেয় পরে রয়েছে বাকি তিনজন। প্রতিবেশীদের ডেকে অ্যাম্বুল্যান্স করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা ফুলরানি দেবী ও অঙ্কিতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মনোহর ও শিবানীর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিবানীর। মনোহরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কীটনাশক সালফাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন তাঁরা।
তবে মৃত্যুর কারণ ঘিরে রহস্য ঘনিয়েছে। কোনও পারিবারিক বিবাদের কারণে আত্মহত্যা নাকি অন্য কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কারণ, দিন কয়েকআগেই বাপের বাড়ি গিয়েছেন মনোহরের স্ত্রী। তিনি কোনও ঝামেলার কারণে বাড়ি ছেড়েছিলেন। নাকি এমনি ঘুরতে গিয়েছেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। উল্লেখ্য, দিল্লির বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়। যাদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ছিল। এই ঘটনা নাড়িয়ে দেয় গোটা দেশকে। এবার সেই ছায়া মধ্যপ্রদেশে।