সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কেউ বলছেন ভাল! কারও মতে এ একেবারে অপরিণত এক সিদ্ধান্ত। মতামত যা-ই হোক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫০০ ও ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা ছাড়া উপায় নেই কোনও! দেশ একরকম বাধ্য হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনে। সেই ডিজিটাল ভারতের চেহারাটা কীরকম হতে পারে, তার একটা আঁচ পাওয়া গিয়েোছে পুরনো বছরের শেষের দিকে ভালমতোই! নোটবন্দির পেরিয়ে গিয়েছে পাক্কা ৫০ দিন! কিন্তু তারপর? নোট বাতিলের জেরে কীরকম হতে চলেছে ২০১৭?
দেশের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কিন্তু মোদির এই সিদ্ধান্তকে নিতান্ত ছেলেখেলা ছাড়া আর কিছুই বলতে রাজি নন। তাঁর মতে- নরেন্দ্র মোদি এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অপরিণামদর্শী। এর জেরে ভারতকে অনেক কষ্ট করতে হবে। উদ্যোগ ভাল, সন্দেহ নেই! কিন্তু কোনও পরিকাঠামো ছাড়া রাতারাতি দেশকে ডিজিটাল লেনদেনে নিয়ে আসা সম্ভবই নয়! তাই অমর্ত্য সেনের মতে আর্থিক লেনদেনের দিক থেকে ২০১৭ মোটেও ভাল যাবে না।
মন্থন গ্রুপের কর্ণধার অজয় গান্ধী যদিও মোদির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পষ্ট কোনও ধারণায় আসতে পারছেন না। এই ধরনের উদ্যোগ তো ভারতে এর আগে আর কেউ নেননি! ফলে তার ফলাফলটা কী হতে চলেছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ, ভোগান্তি তো একটু হবেই!
আবার চলচ্চিত্র প্রযোজক গনাভেল রাজার মতেও মাত্র ৫০ দিনের মাথায় ছবিটা ঠিক কী হতে চলেছে, তা বলা সম্ভব নয়। একটা ছবি যখন তৈরি হয়, তখন তো বোঝা যায় না যে সেটা ঠিক কীরকম হতে চলেছে! এই ব্যাপারটাও তাই! এখন দেখছি নোট বাতিলের জের বক্স অফিসে জোরদার ধাক্কা দিচ্ছে। টিকিট বিক্রি কমে এসেছে অনেকটা। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়, হেসে ফেললেন তিনি!
লেখক অনিল ধরকর অন্যদিকে নোট বাতিলের জেরে দেশকে ভাগ করেছেন দুই ভাগে। ইন্ডিয়া আর ভারত। ইন্ডিয়া স্বচ্ছল মানুষের। তার মানুষ অনেক সুবিধা পায়। ফলে ইন্ডিয়া ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু ভারত গরিব মানুষের দেশ। গরিব মানুষের হাতে টাকাও পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেন গরিব মানুষের পক্ষে কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে!
সব মিলিয়ে একটাই উপায় এখন রয়েছে ২০১৭ সালে দেশের হাতে। দেখে যাওয়া আর তাল মিলিয়ে চলা! আশা করাই যায়, নোটবন্দি দেশকে তেমন সমস্যায় ফেলবে না! ২০১৭-তেও আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছন্দ এবং মসৃণ হবে।