মাসুদ আহমেদ, শ্রীনগর: করোনা ভাইরাসের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেই কাশ্মীরে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক কষেছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না। বিশেষ সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ ৫ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল কাশ্মীর পুলিশ, ২২ নম্বর রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের সোপোর জেলা হাসপাতালে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রবল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে স্থানীয় এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে খবর আসে সোপোর জেলা হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র জমা করেছে জঙ্গিরা। পাকিস্তানের এক লস্কর-ই-তইবা (Laskar-E-Taiba) হ্যান্ডেলারের নির্দেশে কাশ্মীরে থাকা ওই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের হাতে সেগুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই ওই হাসপাতালে গিয়ে ওই চার জঙ্গিকে প্রচুর অস্ত্র-সহ গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে আটটি একে-৪৭ রাইফেল এবং এই রাইফেলের ২৫টি ম্যাগাজিন ও ২৫০ রাউন্ড গুলি, ৯টি পিস্তল ও তার ১৬টি ম্যাগাজিন ও ৩৫১ রাউন্ড গুলি, ৭৭টি গ্রেনেড ও ২১টি ডিটোনেটর ফিউজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
[আরও পড়ুন: ‘আমি সমাজের শত্রু’, লকডাউন ভাঙলেই লিফলেট ধরাচ্ছে যোগী প্রশাসন ]
সোমবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, সোপোর হাসপাতাল থেকে অস্ত্র-সহ চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হল, সোপোরের বাটপোরা এলাকার মুমকাক মহল্লার বাসিন্দা আতিশ্যাম ফারুখ মালিক ও মুসিব হাসান বাট, জালালাবাদের সফকত আলি ট্যাগু ও পুজিপোরা এলাকার নিসার আহমেদ গানাই। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, কাশ্মীরে লস্কর-ই-তইবা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যদের হাতে ওই অস্ত্র গুলি পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। আর এই অস্ত্রগুলি তাদের কুপওয়ারার কেরান এলাকার বাসিন্দা কবীর লোন নামে এক ব্যক্তি দিয়েছিল। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজ করছে পুলিশ।