সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারে লালুকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গড়তে চেয়েছিলেন নীতীশ। কিন্তু, সেই স্বপ্ন সফল হয়নি। রেল দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে যায় জোট সরকারের উপ মুখ্যমন্ত্রী ও লালু তনয় তেজস্বী যাদবের। এই ইস্যুতে শেষপর্যন্ত মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন নীতীশ কুমার। কিন্তু, এতকিছুর পরও সৌজন্য ভোলেননি নীতীশ কুমার। বুধবার রাতে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিতে যাওয়া আগে সৌজন্যে খাতিরেই লালু প্রসাদ যাদবকে ফোন করেছিলেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ক্ষমাও চেয়ে নেন।
[আস্থা ভোটে জয় নীতীশের, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তেজস্বীর]
একসময়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বেধে বিহারের সরকার গড়েছিল জেডি(ইউ)। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন নীতীশ কুমার। কিন্তু, ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদিকে এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। শেষপর্যন্ত এনডিএ ছেড়ে বেরিয়েও আসেন। এরপর মোদিকে থামাতে বিহারে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ও আরজেডির সঙ্গে হাত মেলায় জেডি(ইউ)। গত বছরের বিধানসভা ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়ে লালু-নীতীশের মহাজোট। লালুর দুই ছেলেকেই মন্ত্রী করেন নীতীশ। তেজস্বী হন উপ মুখ্যমন্ত্রী আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তেজপ্রতাপ। কিন্তু, সম্প্রতি রেল দুর্নীতিতে লালু তনয় তেজস্বীর নাম জড়ানোকে কেন্দ্র করে মহাজোটে ভাঙনের সূত্রপাত। বহু টালবাহানার পরও উপ মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তেজস্বীর ইস্তফা দেওয়া নিয়ে কোনও রফাসূত্রে পৌঁছতে পারেনি আরজেডি ও জেডি(ইউ)। শেষপর্যন্ত বুধবার রাতে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন নীতীশ। জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিতে যাওয়ার আগে লালু প্রসাদকে ফোন করেছিলেন নীতীশ কুমার। ফোনে তিনি আরজেডি সুপ্রিমোকে বলেন, ‘ লালুজি আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ২০ মাস ধরে সরকার চালিয়েছে। কিন্তু এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। আমি ইস্তফা দিতে চলেছি।’ লালু প্রসাদ নীতীশকে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করে দেখার অনুরোধও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
[বিজেপির সমর্থনে বিহারের গদিতে ফের নীতীশ, ডেপুটি সুশীল মোদি]
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে জেডি(ইউ)-কে সমর্থন করার কথা ঘোষণা করে বিজেপি। পুরনো জোটসঙ্গীর সমর্থন নিয়ে রাতারাতি ফের সরকারও গড়ে ফেলে জেডি (ইউ)। বৃহস্পতিবার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নীতীশ কুমার। উপ মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির সুশীল মোদি। শুক্রবার বিহার বিধানসভায় আস্থা ভোটেও জিতে যায় জেডি(ইউ) ও বিজেপির জোট সরকার।
[‘সুন্দরী’ স্ত্রীর খাতিরে শেষে এ কী করলেন স্কুলশিক্ষক?]