বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: শতবর্ষ পেরিয়ে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন প্রবীণ বামনেতা ভিএস অচ্যুতানন্দন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০১ বছর। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন দাপুটে এই বামনেতা। সিপিআই ভেঙে সিপিএম প্রতিষ্ঠার সময়কার একমাত্র নেতা হিসেবে এতদিন ছিলেন অচ্যুতানন্দন। সোমবার বিকেলে তিরুঅনন্তপুরমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ প্রয়াণের খবর পেয়ে শোকের ছায়া নেমেছে বাম রাজনৈতিক মহলে। তাঁর হাত ধরে কেরল তো বটেই, কমিউনিস্ট দলেও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শতবর্ষ পেরনো অচ্যুতানন্দ। জাতীয় রাজনীতিতেও অত্যন্ত কদর ছিল তাঁর।
আসল নাম ভেল্লিকাক্কাথু শংকরণ অচ্যুতানন্দন। কেরলের আলাপুঝার ভূমিপুত্র বরাবর বাম ঘরানার। ছয়ের দশকে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিআই ভেঙে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) তৈরির সময় যে ৩২ জন নেতা বেরিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ভিএস অচ্যুতানন্দন। কৃষক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতি করে আসা ভিএস কেরলের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘ সময়ের রাজনীতিক। প্রথমে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ১৪ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তারপরে মুখ্যমন্ত্রী হন ভিএস। সেই হিসেবে কেরল বিধানসভায় রেকর্ড সময় ধরে কাজের নজির রয়েছে, ৩৪ বছরেরও বেশি। চোয়াল শক্ত করে লড়াইয়ে বরাবর স্মরণীয় ভিএস। ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সামলেছেন রাজ্য সম্পাদকের পদও।
কেরলে পিনারাই বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে ভিএসের বিরোধ শুরু হয়। দুর্নীতি ইস্যুতে আপোসহীন ভিএসের জড়িয়েছেন নানা বিতর্কেও। ধীরে ধীরে অসুস্থতাও কাবু করে ফেলেছিল প্রবীণ রাজনীতিককে। সবমিলিয়ে রাজনীতিতে ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন অচ্যুতানন্দন। মাসখানেক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেই থেকে তিরুঅনন্তপুরমের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষদিকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ভিএসের প্রয়াণ সংবাদ নিশ্চিত করেন দলের রাজ্য সভাপতি এমভি গোবিন্দন। দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মৃত্যুতে সিপিএমের একটি অধ্যায় সমাপ্তি। শোকের ছায়া বাম রাজনৈতিক মহলে।