সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময় সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের রোষের মুখে পড়লেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সম্প্রতি লখনউের একটি নিম্ন আদালতের দেওয়া সমনের বিরুদ্ধে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রাহুল। সেখানেই তাঁর আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানায়, সংবিধানের ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ বাকস্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এর একটি সীমা রয়েছে। বাকস্বাধীনতার অর্থ সেনাবাহিনীকে অসম্মান করা নয়।
২০২২ সালে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সময় রাজস্থানে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাহুল। সেখানে তিনি বলেন, “ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু চিন যে ভারতের ২০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে, সেবিষয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না। অরুণাচল প্রদেশে আমাদের জওয়ানরা মার খাচ্ছেন- তা নিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যম চুপ। মানুষ সব দেখছে।” এই জওয়ানদের ‘মার খাওয়া’ মন্তব্য নিয়েই বিতর্কের ঝড় ওঠে। কংগ্রেস সাংসদের বিরুদ্ধে লখনউয়ের একটি আদালতে মানহানির মামলা করেন ‘বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (বিআরও)’ প্রাক্তন পরিচালক উদয় শংকর শ্রীবাস্তব। এরপরই উত্তরপ্রদেশের সেই নিম্ন আদালত রাহুলকে সমন পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার বিরোধিতা করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। বুধবার সেই মামলাতেই আদালত তাঁকে ভর্ৎসনা করল।
লাদাখে এবং অরুণাচলে চিনের আগ্রাসন নিয়ে শুরু থেকেই কেন্দ্রের সমালোচনায় মুখর বিরোধীরা। বিশেষ করে রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। কংগ্রেস সাংসদরে অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী চিনের সামনে আত্মসমর্পণ করেছেন। চিন ভারতের জমি দখল করে বসে আছে, অথচ মোদি তা স্বীকার পর্যন্ত করতে চাইছেন না। কখনও প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভীতু’ বলে কটাক্ষ করেছেন, আবার কখনও নরেন্দ্র মোদির পরিবর্তে ‘সারেন্ডার মোদি’ বলে তোপ দেগেছেন রাহুল।