মাসুদ আহমেদ, শ্রীনগর: প্রবল তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভূস্বর্গের জনজীবন। গত দু’দিন ধরে একটানা তুষারপাতের ফলে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মোট সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন সেনাকর্মীও আছেন। এর মধ্যে দুজন জওয়ান ও বাকিরা ভারতীয় সেনায় মালবাহক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কুপওয়ারা দিয়ে আসার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ওই দুই জওয়ানের। অন্যদিকে ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুতের তার জুড়তে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্য বিদ্যুত্ দপ্তরের এক কর্মী। এছাড়া গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যু হয়েছে একজন পথচারী ও এক ফুটপাতবাসীর। বাকি ছ’জনের বিষয়ে কিছু জানা না গেলেও বিদ্যুত্ দপ্তরের মৃত কর্মীর পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করার কথা ঘোষণা করেছে শ্রীনগর জেলা প্রশাসন।
[আরও পড়ুন: অযোধ্যায় পাথর খোদাই বন্ধ রাখল ভিএইচপি, অশান্তি রুখতে মোতায়েন আধাসেনা]
এমনিতেই গত পাঁচ আগস্টের পর থেকে বদলে গিয়েছে কাশ্মীরের পরিস্থিতি। প্রায় প্রতিদিনই নিরাপত্তা রক্ষী ও জঙ্গিদের লড়াই হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলিতে সংঘর্ষবিরতি ভেঙে অবিরত গোলা ও গুলি ছুঁড়ছে পাকিস্তান। আর এর আড়ালে প্রতিনিয়ত জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে তারা। যদিও ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য তাদের ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। মোটের উপর বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল কাশ্মীরের জনজীবন। গত দুদিন তুষারপাতের ফলে তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কাশ্মীরের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ রক্ষাকারী শ্রীনগর-জুম্ম জাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। খারাপ আবহাওয়ার জন্য বাতিল হয়েছে শ্রীনগর বিমানবন্দরের সমস্ত ফ্লাইট।
[আরও পড়ুন: সংঘর্ষবিরতি ভেঙে ফের হামলা পাকিস্তানের, শহিদ ভারতীয় জওয়ান]
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল থেকেও টানা তুষারপাত হচ্ছে ভূস্বর্গের বিভিন্ন জায়গায়। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বেশিরভাগ রাস্তাই পুরু বরফের চাদরে ঢাকা পড়েছে। নানা জায়গায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবরকম চেষ্টা করছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। রাস্তায় জমা জল সরানোর জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে পাম্প চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি জমে থাকা বরফ সাফাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৪৫টি যন্ত্র।