সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গগনচুম্বী অট্টালিকা। ঝাঁ চকচকে রাস্তা। চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া আলোকমালা। এই হচ্ছে মায়ানগরী মুম্বই। লক্ষ-লক্ষ মানুষকে বুকে আগলে আজও অনেকেরই গন্তব্য ‘বম্বে’। এই নগরীর বুকেই ঘাপটি মেরে রয়েছে কয়েক কোটি বছর পুরনো একটি রহস্য। নিত্যদিনের ব্যস্ততা, মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সকলের চোখের সামনে অধরা হয়ে রয়ে গিয়েছে এক ঘটনা।
নোবেলজয়ী রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের শহর মুম্বইয়ে অনেকেই গিয়েছেন। জিগ্যেস করলে তারা বলতেই পারেন, ধুর মশাই! কোথায় রহস্য? লালমোহন বাবুর মতো আপনার বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কটাক্ষ করে বলতেই পারেন ‘হাইলি সাসপিশিয়াস’। তবে মুম্বই গেলে অবশ্যই দেখে আসবেন ‘গিলবার্ট হিল’ নামে প্রাগৈতিহাসিক রহস্যময় এক বিশাল প্রস্তর-স্তম্ভ। সকলের চক্ষের সামনেই রয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে ঘটে যাওয়া এক ভয়ানক ঘটনার প্রমাণ ওই বিশালাকৃতি পাথরটি।
[উন্মুক্ত শরীরে রঙের খেলায় মাতলেন সারা বিশ্বের শিল্পীরা]
আসুন জেনে নেই গিলবার্ট হিলের ওই পাথরের রহস্য। কয়েক কোটি বছর আগের কথা, পৃথিবীর বুকে তখন ঘুরে বেড়াত দানবাকৃতি ভয়াল ডাইনোসর। যাদের ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘জুরাসিক পার্ক’ নামের হলিউডের বিখ্যাত সিনেমায়। যাই হোক, বেশ মেজাজে পৃথিবী দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল মহাকায় প্রাণীরা। খাদ্যশৃঙ্খলার শীর্ষে থাকায় তেমন ভয়ভীতিও ছিল না বিশেষ। কিন্তু বাদ সাধল প্রকৃতি। প্রচণ্ড বেগে মহাকাশ থেকে ধেয়ে আসা এক গ্রহাণু আছড়ে পড়ল পৃথিবীর বুক। বিশ্বগ্রাসী বিস্ফোরণে মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসর প্রজাতি। বিজ্ঞানীদের মতে গ্রহাণুর আছড়ে পড়ার পর পৃথিবী কেঁপে উঠে আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে। প্রবল স্রোতে ভূগর্ভস্থ লাভা বেরিয়ে আসতে শুরু করে। তৈরি হয় এক বিশালাকৃতি লাভা বুদবুদের।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসায় মাঝা আকাশেই প্রস্তরীভূত হয়ে যায় লাভার বুদবুদটি। পড়ে সময়ের সঙ্গে ভেঙে পড়ে সেটি। তবে বিশ্বের মাত্র তিনটি জায়গায় বিশাল পাথরের খণ্ডে রয়ে যায় সেই ঘটনার প্রমাণ। তার মধ্যে একটি হচ্ছে মুম্বইয়ের আন্ধেরির গিলবার্ট হিল। এরকমই বাকি দু’টি পাথর রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ‘ডেভিল’স পোস্টপাইল’ ও ‘ডেভিল’স টাওয়ার’ নামে বিখ্যাত সেই পাথরগুলি।
তাই আধুনিকতার মোড়কে মোরা মুম্বইয়ে গেলে অবশ্যই একবার ঘুরে আসবেন গিলবার্ট হিল থেকে। হয়ত বা খুঁজে পাবেন আরও কোনও রহস্যের সুত্র। ব্যোমকেশের মতো ‘ছাই উড়াইয়া দেখিবার’ চেষ্টা করে হয়তো বা পেলেও পেতে পারেন কোনও অমূল্য রতনের সন্ধান।
[ভারতীয় দণ্ডবিধিতে এই আইনগুলির কথা কি আপনি জানেন?]