তপন বকসি, মুম্বই: এবারের গণেশ পুজো মুম্বইয়ে শুরুই হয়েছিল বৃষ্টিভেজা পরিবেশে। পুজোর দ্বিতীয় দিনের শেষে বৃষ্টি আবার এল ঝাঁপিয়ে। সারারাত সারাদিন অঝোর বৃষ্টিতে জলমগ্ন দেশের বাণিজ্য নগরী। শহরের বিভিন্ন জায়গা জলের তলায়। মঙ্গলবার রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা ছিলই। বুধবার স্কুল-কলেজে আগাম ছুটি ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছিল। কথামত বেশিরভাগ স্কুল-কলেজ ছুটি দিলেও কিছু স্কুল-কলেজ প্রথমে খুললেও মাঝপথে ছুটি হয়ে যায়।
মুম্বই শহরতলি ছাড়াও থানে এবং নভি মুম্বইয়ের বেশকিছু অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটারেরও বেশি। আবহাওয়া দপ্তরের ঘোষণাতে আগামী মুম্বই এবং পার্শ্ববর্তী থানে, রায়গড়, পালঘর, কোলাপুর, সাংলি, সাতারা জেলাগুলিতে আগামী তিনদিনে ভারী বৃষ্টি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতমাসেই প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে মহারাষ্ট্রের সব নদী ভেসে গিয়েছে। তার দিন পনেরোর মধ্যেই আবার ব্যাপক ও অঝোর বৃষ্টির জন্য এমনিতেই জলধারণের ঠাঁই নেই। তার ওপর বাঁধগুলিও উপচে পড়ছে। সেখানেও জল ধরে রাখা সম্ভব নয়। ফলে টানা বা রেকর্ড বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীগুলির ওপর। মহারাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাই আগামী আটচল্লিশ ঘন্টা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষদের বাড়ির বাইরে বেরতে বারণ করা হয়েছে।
মহাবালেশ্বর, লাভাসার টুরিস্ট স্পটগুলি ধস নামার কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রায় দু থেকে তিনশো পর্যটক লাভাসা আর মহাবালেশ্বরে আটকে পড়েছেন। পুণের ভিড়ে ব্রিজ, ডেকান বন্ধ। অন্যদিকে, পুণের ২১ কিলোমিটার দুরে মুথা নদীর খড়কওয়াসলা বাঁধ থেকে একত্রিশ হাজার চারশো কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে সাধারণ মানুষদের আগে থেকেই সতর্ক থাকতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।