Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২১ জুলাই ২০২৬
India-UK FTA

সস্তায় মিলবে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি, ‘মুক্ত বাণিজ্যে’ কী প্রাপ্তি ভারতের?

এই চুক্তিতে উপকৃত হতে চলেছে কোন কোন সংস্থা?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৫, ১৬:৪২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২৫, ১৬:৪২

options
link
সস্তায় মিলবে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি, ‘মুক্ত বাণিজ্যে’ কী প্রাপ্তি ভারতের? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ তিন বছরের টানাপোড়েন শেষে আগামিকাল বৃহস্পতিবার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)তে  স্বাক্ষর করতে চলেছে ভারত ও ব্রিটেন। এই বাণিজ্য চুক্তির জেরে ব্রিটেনে কার্যত শুল্কমুক্ত বাণিজ্য করতে পারবে ভারত। অন্যদিকে, ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কের হার অনেক কমাবে নয়াদিল্লি। যার জেরে অনেকখানি কমে যাবে, সেখান থেকে আসা স্কচের মতো অ্যালকোহল জাতীয় পণ্যের দাম।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক এই চুক্তিতে কে কতটা লাভবান হবে…
ব্রিটেন
ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ে অনেকখানি শুল্ক কমাচ্ছে ভারত। পূর্বে ব্রিটেন থেকে আসা স্কচ হুইস্কি এবং জিনের উপর শুল্ক ছিল ১৫০ শতাংশ। সেটা কমিয়ে আনা হবে ৭৫ শতাংশে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে তা আরও কমে হবে ৪০ শতাংশ। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের পণ্যে শুল্ক কমে যাওয়ায় ভারতের বাজারে এর দাম অনেকটা কমে যাবে। বর্তমানে বহুমূল্য এই মদ চলে আসবে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অটোমোবাইল ক্ষেত্রে ব্রিটেন থেকে আসা গাড়ির উপর ভারত ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক চাপায়। এই শুল্ক এক ধাক্কায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনছে নয়া শুল্ক চুক্তির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি বিদেশি প্রসাধনী, স্যামন মাছ, চকলেট, বিস্কুট, চিকিৎসা সরঞ্জাম-সহ অন্যান্য বহু পণ্যে অনেকখানি কমিয়ে দেওয়া হবে শুল্কের হার।

ভারত
জানা যাচ্ছে, রপ্তানি ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্যে ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বর্তমানে যে সব পণ্যে ব্রিটেনে রপ্তানি করা হয় তার বেশিরভাগটাই হতে চলেছে শুল্কমুক্ত। এর ফলে ভারতের চর্ম শিল্প, জুতো, গাড়ির যন্ত্রাংশ, রত্ন, অলঙ্কার, আসবাবপত্র, ক্রীড়া সামগ্রী, রাসায়নিক ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কম খরচে রপ্তানি করা যাবে। বর্তমানে এই সব পণ্যের বেশিরভাগের উপর ৪-১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হত সংস্থাগুলিকে। নয়া ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক এবং হাইব্রিড যানবাহনের ভারতীয় নির্মাতারাও ব্রিটেনের বাজারে প্রবেশের অগ্রাধিকার পাবেন।

যে ভারতীয় সংস্থাগুলি উপকৃত হবে
এই চুক্তির জেরে উপকৃত হতে চলেছে বহু ভারতীয় সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে চর্ম ও বস্ত্র শিল্পের সংস্থা ‘ওয়েলসপুন ইন্ডিয়া’ অরবিন্দ লিমিটেড, জুতো প্রস্তুতকারী সংস্থা বাটা ইন্ডিয়া, রেলেক্সো। অটোমোবাইল ক্ষেত্রে টাটা মোটরস, মহিন্দ্রা ইলেক্ট্রিক। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে ভারত ফোর্জ।

ব্রিটিশ সরকারের অনুমান অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এই চুক্তি ব্রিটেনের জিডিপি ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড (৫৬,১৫০ কোটি টাকা) বৃদ্ধি করতে পারে। পাশাপাশি ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় পোশাক, জুতো এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমলে সেখানকার নাগরিকরা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির জেরে ভারতের তরফে ব্রিটেনের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক কমানো হচ্ছে। চুক্তিতে ব্রিটেনের যে সংস্থাগুলি উপকৃত হবে সেগুলি হল, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের সংস্থা ডিয়াজিও (DIAGEO), গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্টন মার্টিন, জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (টাটা মোটরসের মালিকানাধীন)-এর মতো বিলাসবহুল গাড়ি সংস্থা।

অন্যান্য ক্ষেত্র
এই চুক্তিতে পরিষেবা ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে ব্রিটেনে প্রবেশাধিকার পাবেন ভারতীয় যোগ প্রশিক্ষক, রাঁধুনি, সঙ্গীত শিল্পী ও অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক পরিষেবাপ্রদানকারীরা। আগে ব্রিটেনে মাটিতে পা রাখলে সামাজিক নিরাপত্তা বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হত ভারতীয়দের। নয়া চুক্তিতে কেউ ব্রিটেনে এলে ৩ বছর পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা বাবদ কোনও অর্থ দিতে হবে না। আশা করা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের জেরে বছরে ৪,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া ভারতের অসংবেদনশীল ক্ষেত্রে ব্রিটেনের সংস্থাগুলিকে ২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪.০৯ লক্ষ কোটি টাকায় ৪০ হাজারেরও বেশি টেন্ডার জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে ব্রিটেনের সংস্থাগুলি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্রিটেনে কাজ করছে এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় সংস্থা। যেখানে কর্মরত এক লক্ষের বেশি মানুষ। এখানে ভারতীয়দের বিনিয়োগ প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১.৭৩ লক্ষ কোটি টাকা)। অন্যদিকে ভারতে ব্রিটেনের বিনিয়োগ প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৩.১১ লক্ষ কোটি টাকা। তবে চুক্তি সম্পন্ন হলেও, ভারত নিজের কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে কোনওরকম আপস করতে রাজি নয়। দেশের কৃষিক্ষেত্রকে সম্পূর্ণরূপে চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সাফল্যের পথে মূল বাধা হয়ে উঠেছে এই কৃষিক্ষেত্র। দেশের কৃষকদের স্বার্থ মাথায় রেখে বিদেশিদের জন্য এই সেক্টরের দরজা পুরোপুরি বন্ধ রাখবে নয়াদিল্লি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.