সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হেফাজত থেকে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে খতম হায়দরাবাদ গণধর্ষণ কাণ্ডের ৪ অভিযুক্ত। শুক্রবার এই খবরে দেশবাসীর ঘুম ভাঙার পর তেলেঙ্গানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সবাই। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ধর্ষকদের উচিত শাস্তি হয়েছে বলে সরব নেটিজেনরা। তবে এদিনের ঘটনার সঙ্গে ১১ বছর আগে ওয়ারাঙ্গলের ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল। পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণের পর পুড়িয়ে খুনের ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন যিনি, সাইদরাবাদের সিপি ভিসি সাজ্জানর তখন ওয়ারাঙ্গলের পুলিশ সুপার ছিলেন। দুটি এনকাউন্টারের নেপথ্যেই এই পুলিশকর্তা। ইতিমধ্যেই তাঁর ছবি পোস্ট করে সিনেমার ‘বাজিরাও সিংঘমের’ সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সাবেক অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ দুই তরুণী ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে অ্যাসিড হামলার ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে মারে। ওয়ারাঙ্গলের কাকাতিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ছাত্রী স্বপ্নিকা ও প্রনীতার উপর অ্যাসিড ছোঁড়ে তিন যুবক। মূল অভিযুক্ত শ্রীনিবাস রাওয়ের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্বপ্নিকা ও তাঁর বান্ধবী প্রনীতার উপর হামলা হয়। শ্রীনিবাস-সহ তিন অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে মারে পুলিশ। সেই অপারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন আইপিএস ভিসি সাজ্জানর। সেদিনও অভিযুক্তদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে অকুস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ। সেইসময় পুলিশের উপর হামলা করতে যায় অভিযুক্তরা। আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ।
[আরও পড়ুন: ‘মেয়ের আত্মা শান্তি পেল’, হায়দরাবাদ গণধর্ষণ কাণ্ডে ধৃতদের মৃত্যুতে খুশি নির্যাতিতার পরিবার]
সেই ঘটনার পর থেকে সাজ্জানরকে ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়। যদিও কখনও প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন না সাজ্জানর। ওয়ারাঙ্গলের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও এনকাউন্টার হয়। তখন সাজ্জানর ও তাঁর টিমকে ধন্য ধন্য করেছিল ওয়ারাঙ্গলের মানুষ। ১১ বছর পর শুক্রবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হায়দরাবাদ গণধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্তদের এনকাউন্টারের পর। পুলিশকে ‘রিয়েল হিরো’ আখ্যা দিয়ে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছেন প্রত্যেকে। আর এনকাউন্টারের নেপথ্য নায়ক সাজ্জানরকে নিয়ে উল্লসিত সাধারণ মানুষ।