সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের মানবিকতার নজির গড়ল ভারত। কুলভূষণ মামলার পর থেকে পাকিস্তানিদের ট্যুরিস্ট ভিসার দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার তীর্থযাত্রীর জন্য তা ভাঙল ভারত। ১৬০ জন পাকিস্তানি তীর্থযাত্রীকে ভারতে আসার ভিসা দেওয়া হল। মঙ্গলবার আমির খুশরোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতে আসছেন তাঁরা।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, তীর্থযাত্রীদের ইতিমধ্যেই ভিসা দেওয়া হয়েছে। কুলভূষণের মামলার কারণে ভিসার উপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল, তা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ২০১৫ সালের রাশিয়ায় নরেন্দ্র মোদি ও নওয়াজ শরিফের সঙ্গে মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ধর্মীয় কারণে দুই দেশের মধ্যে পর্যটককে ভিসা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সেটিই মেনে চলা হয়েছে।
[ দীর্ঘদিনের যৌন সম্পর্ক কি বিয়ের সমতূল্য? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের ]
এমনিতে বছরভর কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলে বিবাদ। পাকিস্তানের বারবার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন ও ভারতের পালটা জবাব চলতেই থাকে নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমারেখায়। তাই পাকিস্তানিদের এদেশে আসার উপর বরাবরই থাকে কড়াকড়ি। এছাড়া গত বছর ভারতীয় গুপ্তচর অভিযোগে কূলভূষণের ফাঁসির আদেশ যখন দেয় পাকিস্তান, তখন সেদেশের নাগরিকদের এদেশে আসার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এবছরও তা কায়েম ছিল। এবছর মার্চ মাসে ৫০০ পাকিস্তানি তীর্থযাত্রীর ভিসা বাতিল করেছিল ভারত। আজমেরে খাওয়াজা মইনুদ্দিনের সৌধ দেখার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন কিছু পাক নাগরিক। কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভেবে তাঁদের ভিসা বাতিল করা হয়।
[ বিনাটিকিটে ট্রেনে উঠলেই এবার হাজার টাকা জরিমানা! ]
কিন্তু এবার আর সেই দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখতে চাইছে না ভারত। মানবিকতার খাতিরেই এবার ১৬০ তীর্থযাত্রীকে ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে মানবিকতার নজির এই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগে পথ ভুলে পাকিস্তানের ১১ বছরের মহম্মদ আবদুল্লা চলে এসেছিল ভারতে। পুঞ্চ জেলার দেগওয়ারে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে। পরে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ তাকে হাতে মিষ্টির প্যাকেট দিয়ে দেশে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে। সামরিক মুখপাত্র তখন জানিয়েছিলেন, আবদুল্লাকে মানবিকতার খাতিরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।