সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দুই ‘বন্ধু’র যুদ্ধে ‘উদ্বিগ্ন’ ভারত। শনিবার রাতে ইজরায়েলে আক্রমণ করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে কার্যত ‘ধর্ম সংকটে’ নয়াদিল্লি। যুদ্ধ বাঁধার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিবৃতি জারি করে ‘যুদ্ধ ছেড়ে কূটনীতির পথে ফেরা’র আবেদন জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। একইসঙ্গে ইজরায়েলে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে বলেও জানিয়েছে দিল্লি।
তেল আভিভে ক্ষেপনাস্ত্র আক্রমণের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি জারি করে বিদেশ মন্ত্রক। বলা হয়, “পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল-ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তবে এখনই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তির পথে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের হিংসা ছেড়ে কূটনীতির পথে ফিরতে হবে। ওই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা প্রয়োজন।” শুধু তাই নয়, সে দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের জন্যও বার্তা দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গোটা পরিস্থিতি উপর নজর রাখছি আমরা। সেখানে থাকা ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস।” যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্রিটেনের বিদেশ সচিব ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।
Statement on the situation in West Asia:https://t.co/kpJzqwTVWC pic.twitter.com/cSbJQrAjCC
— Randhir Jaiswal (@MEAIndia) April 14, 2024
[আরও পড়ুন: স্লিপার সেল, রাঁচিতেও আইএস মডিউলের হদিশ! কাঁথিতে ধৃত জঙ্গিদের জেরায় বিস্ফোরক তথ্য]
প্রসঙ্গত, তেল আভিভ বনাম তেহরানের যুদ্ধে কার্যত ধর্ম সংকটে ভারত। দুই রাষ্ট্রই নয়াদিল্লি ‘ঘনিষ্ঠ’। ইরান ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধু। আবার ইজরায়েলও ভারতের ‘বন্ধু’। সমরাস্ত্র থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, তেল আভিভের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল ভারত। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য় নয়াদিল্লির অন্যতম ভরসা তেহরান। এমন দুই রাষ্ট্রের যুদ্ধে নয়াদিল্লি কার পক্ষ নেয় নাকি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে সেটাই এখন দেখার।
উল্লেখ্য, শনিবার ইজরায়েলে মিসাইল ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। হামলার কথা স্বীকার করেছে ইজরায়েলি সেনা। ঘনঘন সাইরেনে কাঁপছে ইহুদি দেশটির একাধিক শহর। জেরুজালেমে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে পালটা মার দিচ্ছে ইজরায়েলের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমও।