সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশে সাহায্য করা, বারবার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা এবং জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তোলার অভিযোগ রয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবুও প্রতিবেশী দেশটির দিকে ফের একবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ইসলামাবাদের প্রতি সৌহার্দ্যের নিদর্শন দেখিয়ে সোমবার ১১ জন পাক বন্দিকে মুক্তি দিতে চলেছে নয়াদিল্লি। জানা গিয়েছে, এরা প্রত্যেকেই নিজেদের সাজা কাটিয়ে ফেলেছেন। চর সন্দেহে পাক সেনা আদালতে প্রাক্তন নৌসেনা অফিসার কুলভূষণ যাদবের ফাঁসির সাজা ঘোষণার পর প্রথমবারের জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ করা হল ভারতের তরফে। চলতি বছরের এপ্রিলেই এই সাজা ঘোষণা করা হয়েছিল। তারপর থেকেই দু’দেশের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
[ফিদায়েঁ হামলা রুখে উরিতে পাঁচ জঙ্গিকে নিকেশ করল ভারতীয় সেনা]
এর আগে গত সপ্তাহেই আলি রেজা (১১) এবং বাবর (১০) নামে দুই পাকিস্তানি নাবালককে মুক্তি দিয়েছিল ভারত। এরা দু’জনে কাকা মহম্মদ শাহজাদের সঙ্গে ভুল করে ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়েছিল। এরপরেই সেনার হাতে আটক হয় তাঁরা। গত এপ্রিল মাসেই নাবালক দু’জনকে ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু কুলভূষণ যাদবকে ফাঁসির সাজা দেওয়ার পরেই পরিস্থিতি বদলে যায়। শেষপর্যন্ত কাকা শেহজাদকে আটকে রাখলেও নাবালক দু’জনকে ছেড়ে দেয় ভারত। আধিকারিকদের মতে, কুলভূষণ যাদবের মামলায় দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক যতই তলানিতে গিয়ে পৌঁছাক, এই ঘটনার সঙ্গে সেটার মিল খুঁজতে যাওয়া ঠিক নয়। মানবিকতার খাতিরেই এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি মতে, পাকিস্তানের জেলে ১৩২ জন ভারতীয় বন্দি রয়েছেন। যাঁদের মধ্যে ৫৭ জন ইতিমধ্যেই নিজেদের সাজার মেয়াদ পূরণ করে ফেলেছেন। এই প্রসঙ্গে পাক প্রশাসনের দাবি, ভারত ওই বন্দিদের নিজের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
[পাহাড়ে আরও বড় আন্দোলনের ডাক মোর্চার, রুখতে মরিয়া রাজ্য প্রশাসন]
কয়েকদিন আগেই কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO-এর বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা হয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে কুশল বিনিময়ও হয়। শরিফের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজখবর নেন মোদি। এমনকী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মা ও পরিবারের সদসস্যরা কেমন আছেন, তাও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই ভারতের এভাবে পাক বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও কুলভূষণ যাদব মামলায় আন্তর্জাতিক আদালত স্থগিতাদেশ দিলেও, পাকিস্তান এখনও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল। তাই পাক বন্দিদের মুক্তি দিলেও আগামীদিনে কুলভূষণের মামলায় দু’দেশের লড়াই আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।