সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের শুরুতেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানী। প্রতিবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন এক কনস্টেবল রতন লাল। সেই মৃত্যুতেই পুলিশের খাতায় নাম জড়িয়েছে দিল্লির আইনজীবী ডি এস বিন্দ্রার (DS Bindra)। চার্জ শিটে নিজের নাম দেখে ভেঙে পড়েন আইনজীবী। সিএএ (CAA)-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের জন্য তিনি লঙ্গরের আয়োজন করেছিলেন।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বছরের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দিল্লির উত্তর-পূর্ব প্রান্ত। দিল্লির শাহিনবাগ সেই প্রতিবাদীদের নেতৃত্ব দেয়। দেশজোড়া আন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে এই শাহিনবাগ। সেই আন্দোলনের আঁচ ছড়ায় দিল্লির চান্দবাগ, মৌজপুর-সহ অন্যত্রও। CAA-র প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল গোটা দেশ। দিনরাত এক করে সেই অনশনকারীদের মুখে অন্ন তুলে দিতে চান্দবাগে তখন লঙ্গরের বন্দোবস্ত করেন আইনজীবী ডি এস বিন্দ্রা। হিংসাশ্রয়ী আন্দোলন চান্দবাগের নামও উঠে আসে। সেই আন্দোলনে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত হন কনস্টেবল রতন লাল। পুলিশের তৈরি চার্জশিটে অভিযুক্তদের তালিকায় নাম পাওয়া যায় আইনজীবী ডি এস বিন্দ্রারও। আর তাতেই চমকে গিয়েছেন এই আইনজীবী। শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের জন্য লঙ্গরের আয়োজন করাতেই কী পুলিশের খাতায় নাম উঠল এই আইনজীবীর? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে এখন তাঁর মনে।
[আরও পড়ুন:হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্তের ফোন চুরির ফল, কোয়ারেন্টাইনে যুবক]
সূত্রের খবর, আইনজীবী ডি এস বিন্দ্রা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেদুল্লা মুসলিমেন (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen)-এর সদস্য। তবে বিন্দ্রা জানান, তিনি অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের সদস্য হলেও তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তবে বিন্দ্রার বিরুদ্ধে চার্জশিটে পুলিশের অভিযোগ হল, সিএএ প্রতিবাদের সময় রোজই সেই এলাকা পরিদর্শনে যেতেন কনস্টেবল সুনীল ও জ্ঞান সিং। এলাকার বাকি প্রতিবাদী সলিম খান, সলিম মুন্নাদের সঙ্গেই নাকি এই দুই কনস্টেবলকে মারধর করেন বিন্দ্রা। প্রতিবাদীদের জন্য নাকি মঞ্চ গড়ার ত্রিপলও জোগাড় করেছিলেন তিনি।
[আরও পড়ুন:প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বায়ুসেনা, গালওয়ানে কি তবে এয়ার স্ট্রাইক?]
তবে পুলিশের এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনজীবী ডি এস বিন্দ্রা। সিএএ-র প্রতিবাদীদের জন্য শুধু দুবেলা খাবারের আয়োজন করেছিলেন বলেই তারঁ নাম পুলিশের চার্জশিটে রাখা হয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। দুঃখপ্রকাশ করে বিন্দ্রা জানান, “হিন্দু হয়েই মুসলিমদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করাতেই আমাকেই এই শাস্তি পেতে হচ্ছে।”