সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রচন্ড বিক্ষোভ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগানের জন্যে বাধ্য হয়ে মাঝপথে সভা ছেড়ে চলে যেতে হল জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে৷ মঙ্গলবার, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মহিলাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়৷ সেখানে মহিলাদের বিভিন্ন হস্তশিল্প ও অন্যান কারিগরি কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল৷ ওই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন প্রায় কয়েক হাজার মহিলা৷
[আইএএস অফিসারের রহস্যজনক মৃত্যু, রাস্তা থেকে উদ্ধার দেহ]
জানা গিয়েছে, কার্যক্রম শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর মঞ্চে ভাষণ দিতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মুফতি৷ তাঁর উপস্থিতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে পুলওয়ামা, সোপিয়ান-সহ রাজ্যের সন্ত্রাস জর্জরিত দক্ষিণ প্রান্ত থেকে আসা মহিলারা৷ ক্রমে শুরু হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান৷ মুফতির বিরুদ্ধেও শুরু হয় স্লোগান৷ পরিস্থিতি জটিল রূপ ধরায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই ২০ মিনিটের মাথায় ওই শিবির ছেড়ে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী৷
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ভাষণ দিতে শুরু করলে তাঁর দিকে চেয়ার ছোড়া শুরু করে মহিলা বিক্ষোভকারীরা৷ প্রথমে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে মনে করলেও পরে দেখা যায় ক্ষুব্ধ মহিলারাই ওই হামলা চালিয়েছে৷ অবশেষে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করার চেষ্টা করলে মুখ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷
[১০০০ সেনা নামিয়ে সোপিয়ানে শুরু জঙ্গিদমন অভিযান]
এক বিক্ষোভকারী মহিলার দাবি, হস্তশিল্পের নাম তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে ওই শিবিরে নিয়ে আসে সরকার৷ তাই মুফতির উপস্থিতিতে আপত্তি জানায় তাঁরা৷ ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’ নেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ৷ তাঁর বক্তব্য, কাশ্মীরের পরিস্থিতি দেখেও মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন মুফতি৷
উল্লেখ্য, গত কয়েকমাস ধরেই বিক্ষোভে জ্বলছে উপত্যকা৷ সেনাবাহিনীর জওয়ানদের লক্ষ্য করে ক্রমশ বাড়ছে সন্ত্রাসবাদী হামলা৷ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিসংগঠনগুলি ক্রমশ চালিয়ে যাচ্ছে নাশকতামূলক কাজ৷ এমনই পরিস্থিতিতে উপত্যকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এস কাশ্মীর যাচ্ছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি ও সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত।
[শহরে বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ, গ্রেপ্তার ৩]