সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রকৃতির নিয়মে প্রতি বছরই বর্ষা আসে। আর প্রবল বর্ষণে বন্যায় ভাসে অসমের কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান (Kaziranga National Park)। তার ফলে প্রাণ যায় বহু নিরীহ বন্যপ্রাণীর। চলতি বছরের ভয়াবহ পরিস্থিতিও প্রাণ কেড়েছে অন্তত পক্ষে ১০৮টি প্রাণীর। বন্যায় বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হচ্ছে নয়া ব্যবস্থা। এবার কাজিরাঙ্গায় ৩২ কিলোমিটার লম্বা কৃত্রিম দ্বীপের মতো উঁচু স্থলভূমি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্ষার শেষে শুরু হবে কাজ।

এই ৩২ কিলোমিটার লম্বা কৃত্রিম দ্বীপের মতো উঁচু স্থলভূমি তৈরির বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে অসম সরকারের কথা হয়েছে। বর্ষা মিটলেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার কাজ শুরু হবে। কাজিরাঙ্গা বনাঞ্চলের দিক থেকে এই ৩২ কিলোমিটার লম্বা কৃত্রিম দ্বীপের মতো উঁচু স্থলভূমি তৈরির কাজ শুরু হবে। বিশ্বনাথ বনাঞ্চলের দিকে গিয়ে শেষ হবে এই কাজ। কতদিনের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে, সে বিষয়ে যদিও এখনও কিছু জানা যায়নি।

এখনও পর্যন্ত ১৪৪টি কৃত্রিম দ্বীপের মতো উঁচু স্থলভূমি রয়েছে কাজিরাঙ্গায়। যার মধ্যে ১১১টি ১৯৯০ সালে তৈরি হয়েছিল। এবং বাকি ৩৩টি তৈরি হয়েছে ২০১৯ সালে।

[আরও পড়ুন: লাদাখে ধাক্কা খেয়ে বেকায়দায় ‘ড্রাগন’, এবার পিছু হটছে চিনা নৌবহরও]
তবে এই স্থলভূমিগুলি বন্যপ্রাণীদের রাখার জন্য যথেষ্ট নয় বলেই দাবি উদ্যান কর্তৃপক্ষের। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রতি বছর বন্যায় অত্যন্ত কষ্ট পেতে হয় বন্যপ্রাণীদের। উদ্যান জলের তলায় চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাসস্থানের খোঁজে অন্যত্র আশ্রয় নেয় প্রাণীরা।

সামনে কারবি পাহাড় সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। তবে গন্তব্যে পৌঁছতে হলে পার হতে হয় ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়ক। তার ফলে দুর্ঘটনাও ঘটে অহরহ। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রাণ হারিয়েছে বহু বন্যপ্রাণী।

এই পরিস্থিতিতে ৩২ কিলোমিটার লম্বা উঁচু কৃত্রিম স্থলভূমি তৈরি করেই প্রাণীদের প্রাণ বাঁচানো কিছুটা হলেও সহজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে খুশি পশুপ্রেমীরাও।
