সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরব। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বৈঠকে যোগদানের আগে এমনটাই বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
বুধবার তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে আজ আমি চিনের কিংদাওয়ের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছি। সেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাব। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। পৃথিবী থেকে সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটনের জন্যও আমি সবাইকে আহ্বান জানাব।’ গালওয়ানে ভারত-চিন সংঘাতের পর প্রথমবার চিন সফরে যাচ্ছেন রাজনাথ। ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত বৈঠক চলবে। ভারতের পাশাপাশি এই বৈঠকে অংশ নেবেন, চিন, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, বেলারুশ, কাজাখিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তান-সহ মোট ১০ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
২০২০ সালে গালওয়ানে সীমান্ত ইস্যুতে ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত চরম আকার নিয়েছিল। এরপর টানা ৫ বছর ধরে দফায় দফায় বৈঠকের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দুই দেশের সম্পর্ক। গালওয়ানের পর ডেমচক, দেপসাংয়ে সেনা মোতায়েন করেছিল দুই দেশ। সেই সেনা প্রত্যাহারও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, অতীতের দুঃসময়কে দূরে সরিয়ে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিতে রাজনাথের এই সফর। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানা যাচ্ছে, এই সফরে দুই দেশের ফের বিমান চলাচল চালু, ভিসা, নদীগুলির জলবণ্টন-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুরের পর সন্ত্রসাবাদ নিয়ে চিনকে অবগত করানোও উদ্দেশ্য কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর। ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে ভারত। দুই দেশের সংঘাতে চিন সরাসরি কাউকে সমর্থন না করলেও পাকিস্তান হয়ে চিনা অস্ত্রই ধেয়ে এসেছিল ভারতে। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করলেও, চিনের পাক-প্রীতি যে পরোক্ষে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন এবং এই ঘটনা যে ভারত ভালো চোখে দেখবে না তা বেজিংকে বুঝিয়ে দিতে চান রাজনাথ।