সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ন’বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণে অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিল মধ্যপ্রদেশের অতিরিক্ত দায়রা আদালত৷ দোষী ভগীরথ প্যাটেলকে ফাঁসির সাজা শোনান বিচারক সুধাংশু সাক্সেনা৷ তিনি বলেন, ১২ বছরের কম বয়সীকে ধর্ষণের ঘটনায় ফাঁসির সাজার আইন পাশ হওয়ার পর এই প্রথম সাজা পেল ভগীরথ৷
রেহেলিতে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ২১ মে৷ ওইদিন ন’বছরের নাবালিকাকে অপহরণ করে ভগীরথ প্যাটেল৷ এরপর স্থানীয় এক মন্দিরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় তাকে৷ ধর্ষণের পর সেখানেই ফেলে রেখে যাওয়া হয় নাবালিকাকে৷ কিছুক্ষণ পর নাবালিকার চেঁচামেচিতে তাঁর আত্মীয় পরিজনেরা জড়ো হয়ে যান৷ ততক্ষণে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত৷ শিশুকে উদ্ধার করে ভরতি করা হয় হাসপাতালে৷ ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পকসো আইনে মামলা রুজু করে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৩৬৬ ধারাতেও মামলা রুজু হয়৷
[স্বয়ং রামও রুখতে পারতেন না ধর্ষণ, কুরুচিকর মন্তব্য করে বিতর্কে বিজেপি বিধায়ক]
মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে ফার্স্ট ট্র্যাক আদালতে শুরু হয় মামলার শুনানি৷ দশদিন ধরে চলে শুনানি৷ ২৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানের উপর ভিত্তি করে ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ হয়। ২৪ মে চার্জশিট ফাইল করা হয়। ডিএনএ টেস্টও করা হয় অভিযুক্তের৷ ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট ও মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্ট পুলিশ হাতে পায় ২ জুলাই। মেলে ধর্ষণের প্রমাণ৷ এরপরই শনিবার মামলার রায় দেন মধ্যপ্রদেশের অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক সুধাংশু সাক্সেনা৷ ভগীরথকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি৷
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ‘‘এই রায় অপরাধীদের কড়া বার্তা দেবে। যারা শিশুদের ধর্ষণ করে তাদের ফাঁসি যাতে হয় সেই রকম আইনের জন্য আমাদের সরকার সবসময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।’’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিং বলেন, ‘‘এই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঐতিহাসিক’’।
[বেড়াতে এসে বান্ধবীর বাবার লালসার শিকার যুবতী, গ্রেপ্তার অভিযুক্ত]
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা সর্বসম্মতিক্রমে একটি বিল পাশ করে। যাতে বলা হয়, ১২ বছর ও তার নিচের মেয়েদের ধর্ষণে প্রমাণিত ব্যক্তিকে মৃত্যদণ্ড দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমতির পর অবশেষে ২১ এপ্রিল ওই বিল আইনে পরিণত হয়। এই বিল পাশের পর প্রথম ফাঁসির সাজা পেল ভগীরথ৷