সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভ্যেস এমন একটা জিনিস, যা কখনই একজন মানুষকে সহজে ছাড়ে না। সেটা ভালও হতে পারে আবার খারাপ। আর খারাপ অভ্যেসগুলির কারণে যেকোনও মুহূর্তে বিপদ আসতে পারে। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ দেরাদুনের ১৬ বছর বয়সি যুবতী আকাঙ্খা কুমারী। রূপকথার গল্পে রাপুনজেলের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। নিজের বড় চুলের জন্য বিখ্যাত ছিল সে। কিন্তু এই চুলের কারণেই বিপদে পড়েছেন আকাঙ্খা।
[OMG! শখের গোঁফ-দাড়ি কেন কামিয়ে ফেললেন রণবীর সিং?]
বহুদিন ধরেই অসুস্থ বোধ করছিল আকাঙ্খা। খাবার খেলেও কমে যাচ্ছিল ওজন। শুধু তাই নয়, কোনও কিছু খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছিল। আর সেকারণেই চিন্তিত হয়ে পড়েন আকাঙ্খার মা-বাবা। শেষপর্যন্ত চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপরেই এক্স-রে পরীক্ষা করে আসল সত্যিটা জানতে পারেন চিকিৎসকরা। দেখা যায়, পাকস্থলীর প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে গোল্লা পাকানো চুলের দলা। চুলের গোল্লাটির আকার একটি গোটা তরমুজের সাইজের। আর সেটির জন্যই ওই যুবতী কিছু খেতে পারছিল না। খেলেও বমি হয়ে সেই খাবার পেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল। এই রোগটিকে ডাক্তারি পরিভাষায় ‘রাপুনজেল সিন্ড্রোম’ বলেও ডাকা হয়।
[এবার এক জনপ্রিয় ভারতীয় ক্রিকেটারের চরিত্রে দেখা যাবে রণবীর সিংকে]
কিন্তু কীভাবে ওই যুবতীর পেটের ভিতর অত চুল এল? জানা গিয়েছে, নিজের চুল ছিঁড়ে নিজেই খেয়ে নিত আকাঙ্খা। গত কয়েক বছর ধরেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে সে। আর তার জেরেই তার পেটের ভিতর চুলের পিণ্ডটি তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ট্রিকোটিল্লোম্যানিয়া নামে রোগের কারণেই যেকোনও একজন নিজের চুল ছেঁড়ার অভ্যেস করে। আর ট্রিকোফ্যাগিয়া হলে সেই চুল খাওয়ার অভ্যেস জন্মায়। আকাঙ্খার ক্ষেত্রেও ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে। শেষপর্যন্ত অবশ্য অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত যুবতীর পেট থেকে দলা পাকানো চুলগুলি বের করতে পেরেছেন চিকিৎসকরা। আপাতত মেয়েটি সুস্থই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।।