সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিজ্ঞাপনে মুখ না ঢাকলে শহর যে পোস্টারে ঢেকেছে তার প্রমাণ মিলেছে মহারাষ্ট্রে। পাকিস্তানি, বাংলাদেশিদের ধরে দিলেই মিলবে নগদ পুরস্কার। তবে সেই পুরস্কার দেওয়ার দাবি সরকারের পক্ষ থেকে নয়। এই দাবি উঠেছে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার তরফ থেকে। মুম্বইয়ের বান্দ্রা-সহ একাধিক জায়গায় ছেয়েছে এই পোস্টারে। পোস্টারে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের যারা ধরে দিতে পারবে তাদের পাঁচ হাজার পাঁচশো পঞ্চান্ন টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ঔরঙ্গাবাদে পোস্টারে ‘ইনাম’ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
সম্প্রতি একটি গেরুয়া পতাকার প্রচলন করেছেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা প্রধান রাজ ঠাকরে। যা দেখলে মনে হবে দেশের এই ধর্মান্ধকরণের টালমাটাল পরিস্থিতিতে হিন্দুত্ববাদী জাগরণের চেষ্টায় রয়েছেন তিনি। মহারাষ্ট্র সরকার গঠনের সময় বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে আসে উদ্ধব ঠাকরে পরিচালিত শিব সেনা। শিব সেনা বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করলেও এই সময় বিজেপির হাত শক্ত করতে কট্টোর হিন্দুত্ববাদী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসছে এমএনএস। বিজেপির সুরে তারাও বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এমএনএস নেতারা জানান, “নিজে থেকে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশিরা না গেলে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।”
[আরও পড়ুন:তাহিরের সঙ্গে কেজরিওয়ালেরও শাস্তি চাই, হিংসা নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ মনোজের]
দিল্লিতে ধর্মান্ধকরণের রাজনীতিতে যখন উত্তাল দেশ তখন বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মনোভাবকে শক্তিশালী করতে এমএনএস এই ধরণের কার্যকলাপ শুরু করেছে মহারাষ্ট্রে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জী নিয়ে দেশের নাগরিকদের মধ্যে মতভেদকে আরও কয়েকগুন বাড়িয়ে দিতে এই পোস্টার যে সিদ্ধহস্ত হবে সেই বিষয়ে একমত রাজনীতিবিদরা। এর মধ্যে দিল্লিতে হিংসায় নিহত হয়েছেন ৪৩ জন। আহতের সংখ্যা প্রায় ৩০০-র কাছাকাছি। দিল্লিতে হিংসা ছড়ানোয় বিজেপি নেতাদের উসকানির বিরুদ্ধে কেন দিল্লি পুলিশ কোনও এফআইআর দায়ের করেনি তাই নিয়ে সওয়াল করে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্ট। শুক্রবার বদলি করা হয় দিল্লির পুলিশ কমিশনারকেও।