সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জাতীয় সঙ্গীত বিতর্কে এবার যোগী সরকারের পাশেই আদালত। উত্তরপ্রদেশের মাদ্রাসাগুলিতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক। বুধবার এমনটাই রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসাগুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা। এদিন ওই মামলার শুনানির শেষে রাজ্য সরকারের নির্দেশকেই বহাল রাখল আদালত। শুধু তাই নয়, হাই কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, সবার উচিত জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকাকে সন্মান করা। প্রসঙ্গত, জোর করে জাতীয়তাবোধ চাপিয়ে দিচ্ছেন যোগী। এমনটাই অভিযোগ করে এসেছে বিরোধীরা। তবে আদালতের রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেল বিরোধীরা।
[জাতীয় সঙ্গীতে ‘না’ শতাধিক মাদ্রাসার, কড়া পদক্ষেপ যোগী সরকারের]
পরিসংখ্যান বলছে উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৮ হাজার নথিভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। এদের মধ্যে ৫৬০টি মাদ্রাসা সরকারি সাহায্য পায়। স্বাধীনতা দিবসে যোগী সরকারের নির্দেশের প্রবল বিরোধিতা করে মাদ্রাসাগুলি। তবে জাতীয় সঙ্গীত নাকি ইসলাম-বিরুদ্ধ। ‘জন গণ’গাইলে নাকি আল্লাহকে অপমান করা হবে। এই অজুহাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া থেকে বিরত থাকে তারা। ওই নির্দেশিকা অমান্য করে প্রায় শতাধিক মাদ্রাসা। তারপরই ফরমান না মানায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন যোগী। যোগী সরকার জানায়, অভিযুক্ত মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে এনএসএ বা জাতীয় সুরক্ষা আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হবে।
সেপ্টেম্বরেই অবাধ দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির অভিযোগে রাজ্যের ৪৬টি মাদ্রাসাগুলিকে দেওয়া সমস্ত রকমের আর্থিক সাহায্য প্রত্যাহার করে নেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। কয়েকদিন আগেই রাজ্যে মাদ্রাসাগুলির জন্য একটি পোর্টাল চালু করে যোগী সরকার। ওই পোর্টালের মাধ্যমে ভুয়ো মাদ্রাসাগুলিকে চিহ্নিত করা হবে বলে জানায় রাজ্য সরকার। তবে যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, প্রত্যেকদিন মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে বলে নিদান দিয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী বিজয় শাহ।
[‘আমার লাভের জন্য দেশকে কখনও বিপদের মুখে ফেলব না’]