সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অসমে হু হু করে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। হাজার চেষ্টা করেও সংক্রমণ রোখা যাচ্ছে না। গোড়ার দিকে কম থাকলেও বর্তমানে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এহেন সময়ে শারদীয় উৎসবের ঘণ্টাধ্বনিতে রীতিমতো শঙ্কিত প্রশাসন। দুর্গাপুজোয় জনতার ঢল নামলে ফল হবে মারাত্মক। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার ডিব্রুগড়ে মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ করল প্রশাসন। তার বদলে পুজো উদ্যোক্তাদের ঘটপুজো করার আরজি জানানো হয়েছে।
[আরও পড়ুন: লাগামহীন সংক্রমণ, দেশের মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৫০ লক্ষ]
জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ডিব্রুগড়ের জেলাশাসক পল্লব গোপাল ঝা। সেখানেই করোনা (Coronavirus) মহামারীর কথা মাথায় রেখে এবছর মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমা স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বদলে বৈদিক রীতি মেনে ঘটপুজো করা হবে। তবে যেসব মন্দিরে স্থায়ী মূর্তি রয়েছে সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কোভিড প্রোটোকল মেনে পুজো করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদিও মন্দির কর্তৃপক্ষকে সামাজিক দূরত্ব, স্যানিটাইজার তথা মাস্ক ব্যবহারের মতো নির্দেশ কড়াভাবে পালন করতে হবে। এছাড়া, অন্যান্য বছরের মতো এবার রাস্তার ধারে দুর্গাপুজো করার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মতো অতটা জমকালো না হলেও অসমে (Assam) বিপুল জনপ্রিয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার আবাহনে ভাষার বিভেদ সরিয়ে ওই রাজ্যের বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে আনন্দের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেন অসমীয়ারাও। বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকা বাদ দিলে, রাজধানী গুয়াহাটি, ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়া শহরের দুর্গাপুজোগুলির জনপ্রিয়তা প্রচণ্ড। কিন্তু এবার সমস্ত আনন্দ ম্লান হয়ে গিয়েছে মারণ ভাইরাসের হামলায়। এখনও পর্যন্ত অসমে আক্রান্ত প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচশো জনের।
সম্প্রতি বিজেপি শাসিত অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা কোভিড পরিস্থিতিতে নমঃ নমঃ করে দুর্গাপুজো (Durga Puja) সারার নিদান দিয়েছেন। অন্যবারের মতো করে পালন করতে গেলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী বলেই সতর্ক করেছেন তিনি। অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর এলাহী আয়োজন এবার বাদ দিতে হবে। বরং প্রথাটুকু মেনেই সারতে হবে পুজো। তাঁর কথায়, বাংলা, অসমে দুর্গাপুজো একটা বড় ব্যাপার। কিন্তু এবার উৎসব পালন করতে গেলে তা বিপদের কারণ হবে। পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রথা মেনে পুজোটুকু সারা হোক, তার বেশি কিছু নয়।