সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নামেই মাদ্রাসা, ভিতরে চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ। এমন অভিযোগ নতুন কিছুই নয়। উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বহু রাজ্যেই এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে। এ রাজ্যেও খাগড়াগড় বিস্ফোরণের প্রাথমিক তদন্তে মাদ্রাসাগুলির ভিতর অবৈধ কাজকর্মের সন্ধান পেয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুষ্কর্ম কোনও মাদ্রাসার ভিতরেই না ঘটে, সেই লক্ষ্যে এবার কড়া নজরদারি শুরু করছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
[উত্তরপ্রদেশে ফের শিশুদের মৃত্যুমিছিল, ৩ দিনে মৃত অন্তত ৬১]
হিন্দুত্বের পোস্টার বয় যোগী তাঁর রাজ্যের সব মাদ্রাসায় এবার শুরু করতে চলেছেন ‘জিও-ট্যাগিং’। এক কথায়, মাদ্রাসাগুলির ভিতর বসানো হবে জিপিএস। জিপিএস মারফত মাদ্রাসাগুলির ভিতর কী চলছে, তার উপর কন্ট্রোল রুম থেকে চলবে নজরদারি। নথিবদ্ধ নয়, এমন কোনও পড়ুয়া বা শিক্ষক মাদ্রাসা নিয়মিত আসা শুরু করলেই খবর পৌঁছে যাবে পুলিশের কাছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই রাজ্যের সব মাদ্রাসাগুলির জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য সরকার। নির্দেশে বলা হয়, প্রত্যেক মাদ্রাসার ভিতরে ছবি, ভবনের ছবি ও বিস্তারিত বিবরণ, ম্যাপ ও শিক্ষকদের ছবি ও ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেনের যাবতীয় তথ্য অবিলম্বে রাজ্যের কাছে জমা দিতে হবে।
[জিএসটি চালু করে কেন্দ্রের কোষাগারে কত টাকা জমা পড়ল?]
উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখে যোগীর এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট সাহসী বলেই মনে করা হচ্ছে। মাদ্রাসাগুলির জন্য একটি নতুন পোর্টালের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশ, সেই পোর্টালে মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক কর্মীর আধার তথ্য আপলোড করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। নয়া ব্যবস্থায় ১০ হাজারেরও বেশি মাদ্রাসাকে তাদের বিস্তারিত তথ্য রাজ্য সরকারের ওই পোর্টালে আপলোড করতে হবে। সরকার অনুমোদিত প্রায় ৮ হাজার মাদ্রাসা রয়েছে উত্তরপ্রদেশে। যার মধ্যে ৫৬০টি মাদ্রাসাকে অনুদান দেয় খোদ রাজ্য সরকারই। স্বাধীনতা দিবসে মাদ্রাসাগুলিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত গাওয়ার ভিডিও রাজ্যকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও বহু মাদ্রাসাই সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে। এবার রিমোট মনিটরিং চালু করে মাদ্রাসাগুলির উপর রাজ্য নিজের নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠোর করতে চলেছে বলেই অনুমান শিক্ষা মহলে। যদিও মুসলিমদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন না। তাঁদের অভিযোগ, মুসলিম বলেই কি তাঁদের দেশপ্রেমের এভাবে ‘প্রমাণ’ দিতে হবে?