সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গতকাল দিনভর জল্পনা ছিল রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান পদে সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হচ্ছেন এনসিপি সাংসদ বন্দনা চহ্বন। আসলে বিরোধীরা চাইছিল যেনতেন প্রকারে শিব সেনার ভোট বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বিরোধী শিবিরে নিয়ে আসা। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়াই বন্দনাকে সমর্থনের একটা বৈধ অজুহাতও পেয়ে যেত সেনা। কিন্তু বিরোধীদের সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল এনসিপি নিজেই। আসলে প্রার্থীপদ পাওয়ার খবর মিলতেই এনসিপির তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দল বিজেডির সঙ্গে। কিন্তু বিজেডি এনসিপি প্রার্থীকে সমর্থন না করার কথা জানিয়ে দেয়। অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বিরোধী প্রার্থীর জয়। জয় অনিশ্চিত বুঝতে পেরেই প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি।
[‘আপনাকে শেষবারের মতো বাবা বলে ডাকতে পারি?’ প্রয়াত নেতাকে খোলা চিঠি পুত্রের]
তাই বাধ্য হয়ে শেষপর্যন্ত কংগ্রেস কর্ণাটকের সাংসদ বি কে হরিপ্রসাদকে প্রার্থী করছে। দুই শিবির প্রার্থী ঘোষণার পরই এখন দিল্লিতে চলছে জল মাপামাপি। এর আগে রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি ঘিরে ঠিক যেভাবে সরগরম ছিল দিল্লির রাজনীতি। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, এবারের লড়াইটা আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি হবে বিজেপির জন্য। কারণ বিরোধীদের মতো বিজেপির জয়ও এবার নিশ্চিত নয়। ২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২৩ জন সাংসদের সমর্থন। এনডিএর হাতে এখন রয়েছেন ৯২ জন সাংসদ। তবে, সেই সঙ্গে এআইএডিএমকের ১৩ জন এবং টিআরএসের ৬ জন। তবে, এনডিএ-র জন্য খারাপ খবর শিব সেনা ভোটদানে বিরত থাকার কথা ঘোষণা করেছে, শিরোমণি অকালি দলও বিরোধী সুরে কথা বলছে।
[মেরিনা বিচেই সমাহিত করা হবে করুণানিধির দেহ, জানাল মাদ্রাজ হাই কোর্ট]
অন্যদিকে, বিরোধীদের কাছে ১১৬ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। বিরোধী শিবিরের মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, টিডিপি, আরজেডি, সিপিএম, সিপিআই, এনসিপির মতো দলগুলি। এখনও বিজেপি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস কোন শিবিরে যোগ দেবে তা নিয়ে কিছু ঘোষণা করেনি। বিজু জনতা দল যদি বিজেপিকে ভোট না দেয় বা ভোটদানে বিরত থাকে সেক্ষেত্রে জয় হবে বিরোধীদেরই। তাই আপাতত সকলের নজর ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। বিজেডি শিবিরের খবর, নবীন পট্টনায়েকও বিজেপির দিকেই ঝুঁকে রয়েছে।