সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার জন্মদিনটা দেশবাসীর সঙ্গে থেকেই পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর দেশবাসীকে উপহার দিলেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সর্দার সরোবর বাঁধ। যাকে গুজরাটের লাইফলাইন বলা হচ্ছে।
১৯৬১ সালে জওহরলাল নেহেরুর হাত ধরে এই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে শুরু হয় কাজ। গত ১৬ জুন দ্য নর্মদা কন্ট্রোল অথোরিটি সর্দার সরোবর প্রজেক্টের সমস্ত গেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। যার ফলে বাঁধের উচ্চতা ১২১.৯২ মিটার থেকে বেড়ে ১৩৮ মিটার হয়েছে। জলধারণ ক্ষমতা ১.২৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার থেকে বেড়ে ৪.৭৩ মিলিয়ন কিউবিক মিটার হয়ে গিয়েছে। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ১৮ লক্ষ হেক্টর জমি উপকৃত হবে। নর্মদার জল পৌঁছবে গুজরাটের প্রায় ৯,০০০ গ্রামে। অতীতে এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। একে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল মেধা পাটকরের নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। যার জেরে ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট এর নির্মাণে নিষেধাজ্ঞাও জারি করে। কয়েকবছর বাদে ফের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিছুদিন পরই গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই সাফল্যই বিজেপির হাতিয়ার বলে মনে করছেন অনেকে।
[প্রয়াত ৬৫-র যুদ্ধের ‘নায়ক’ বায়ুসেনার প্রথম মার্শাল অর্জন সিং]
১৯৫০ সালে আজকের দিনেই গুজরাটে দামোদরদাস মুলচন্দ মোদির ঘরে জন্ম হয় দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রীর। দামোদর দাসের ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন মোদি। ছোটবেলায় ভাদনগর স্টেশনে বাবার চায়ের দোকানে কাজ করতেন। পরে কাছের বাস টার্মিনাসে দাদার চায়ের দোকানে। স্কুলে সাধারণ ছাত্র হিসেবেই তাঁর পরিচিতি ছিল। তবে খুব ভাল কথা বলতে পারতেন। যেকোনও তর্কে তাঁকে হারানো ছিল মুশকিল। মাত্র আট বছর বয়সে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে যোগ দেন। সেই আদর্শেই নিজেকে গড়ে তোলেন। ছোটবেলাতেই যশোদাবেনের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু পরিবারের এই সিদ্ধান্তে মত ছিল না মোদির। কারণ তাঁর লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর সমাজের জন্য কিছু করা। এই তাগিদেই ঘর ছাড়েন মোদি। আর আজ তিনি দেশের ১৪ তম প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, জন্মদিনের শুরুটা প্রধানমন্ত্রী মায়ের আশির্বাদ নিয়েই করেছেন মোদি। এরপরই সর্দার সরোবর বাঁধ উদ্বোধন করেন তিনি। তারপর গুজরাটের দাভোইতে এক জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে এদিন দেশ জুড়ে স্বচ্ছ অভিযান কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। কালীঘাটে এই কর্মসূচিতে যোগ দেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ রাজ্য বিজেপির নেতারা।
[কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে এবার আসরে মনমোহন সিং]