সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিমানবন্দরের মতো রেল স্টেশনেও এবার সিকিউরিটি চেক চালু করার কথা ভাবছে ভারতীয় রেল। সাম্প্রতিক বেশ কিছু রেল দুর্ঘটনার পিছনে উঠে এসেছে অন্তর্ঘাতের তত্ব। তাছাড়া ট্রেনে চুরি-চামারি নিত্য ঘটনা। গোটা দেশেই গোপনে জাল বিছানোর চেষ্টা করছে আইএস-সহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী। এসব সমস্যা এড়াতে এবার রেল স্টেশনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কথা ভাবছে রেল। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশন সিল করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর জন্য অবশ্য যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ, রেল দপ্তর সূত্রের খবর অনুযায়ী নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীদের স্টেশনে পৌঁছাতে হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫-২০ মিনিট আগে।
[জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান]
আসলে রেলের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্রেন ছাড়ার আগে স্টেশন সিল করে দেওয়ার কথা ভাবছে রেল দপ্তর। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে ২টি স্টেশনে এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। কুম্ভমেলা উপলক্ষে এলাহাবাদ (প্রয়াগরাজ) স্টেশনে এবং কর্ণাটকের হুবলি স্টেশনে এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আরপিএফ ডিরেক্টর জেনারেল অরুণ কুমার জানিয়েছেন, “প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী স্টেশনগুলির ফাঁকা জায়গা শনাক্ত করা হচ্ছে। যতদূর সম্ভব স্টেশনে দেওয়াল তুলে দেওয়া হবে। স্টেশনের প্রবেশপথ গুলিতে কোলাপসিবল দরজা লাগানো হবে। তাছাড়া সবসময় আরপিএফ কর্মীরা মজুত থাকবেন। সবসময়ই চলবে সিকিউরিটি চেকিং।” আগামী দিনে ভারতের আরও ২০২টি স্টেশনে এই পদ্ধতি চালু হবে। যা চিহ্নিতও করা হয়েছে।
[লোকসভা ভোটে অশান্তি এড়াতে প্লাস্টিক বুলেট ব্যবহার করবে সিআরপিএফ]
যদিও, রেলের এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। এমনিতে ব্যস্ত স্টেশনগুলিতে দিনে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তাছাড়া ভারতে এমন বহু স্টেশন আছে যেগুলিতে মিনিটে মিনিটে ট্রেন পাস করে, সেই স্টেশনগুলিতে এই পদ্ধতি কীভাবে চালু করা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। তবে, আপাতত দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অরুণ কুমার জানিয়েছেন, “আমরা নতুন প্রযুক্তি আনছি, যাতে লোকবল কম লাগবে। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে মানুষের খুব একটা অসুবিধা হবে না। কাউকেই বিমানবন্দরের মতো কয়েক ঘণ্টা আগে এসে অপেক্ষা করতে হবে না। ১০-১৫ মিনিট আগে পৌঁছালেই হবে।”