নব্যেন্দু হাজরা: ভাল করে পড়াশোনা কর। তবে রেলে চাকরি পাবি। ছোটবেলায় সন্তানদের একথা বলেননি এমন বাবা-মা পাওয়া দায়। কিন্তু এবার একটু ব্রেক কষতে হবে বাবা মাকে। বেশি শিক্ষিতরা সন্তান কিন্তু হারাতে পারে রেলের চাকরি সুযোগ!
[গোড়াতেই টক্কর, রজনীকে অশিক্ষিত বলে তোপ বিজেপি সাংসদের]
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। কারণ ঠেকে শিখেছে রেল। তাই সময়ের সঙ্গে তাল রেখে বদলে যাচ্ছে নিয়মও। বেশি ডিগ্রির ঝোলা নিয়ে ঘুরলে আর চাকরি দেবে না রেল। অন্তত গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি-র মতো সাধারণ চাকরি। অধিক ডিগ্রির বহর দেখলে বরং পরীক্ষায় পাস করেও নিয়োগপত্র নাও মিলতে পারে।
[নতুন দল গড়ে রাজনীতিতে পা, ঘোষণা রজনীকান্তের]
কিন্তু কেন? রেলমন্ত্রক সূত্রের খবর, এখন যারা ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের বা গ্যাংম্যানের কাজ করেন, তাঁদের অনেকেই এমবিএ, বিসিএ, এমনকী বিটেক ডিগ্রিধারী। চাকরির বাজার খারাপ হওয়ায় বাধ্য হয়ে রেলের গ্রুপ-ডি পরীক্ষায় বসেছিলেন তাঁরা। উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিও পেয়েছেন। কিন্তু, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক বেশি হওয়ায় গ্রুপ ডি-র কর্মীর দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না ওই রেলকর্মীরা। রেলের এক আধিকারিক বলেন, “এমবিএ পাস করা ছেলে তো আর সারারাত লাইন ধরে হেঁটে ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ করবে না। তাই কাজে পাঠালেও বসে থাকছেন। ছুটি নিচ্ছেন। কেউ আবার বিটেক পাস করা কর্মী! তিনিও লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধের কাজটায় মন বসাতে পারছেন না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। মাসের শেষে মোটা টাকা মাইনে পাচ্ছেন। অথচ কাজ করছেন না। সাধারণত চাকরি যাওয়ার ভয় না থাকায় তাঁরা কারও কোনও কথা গ্রাহ্যও করছেন না।” ওই রেলকর্তার সংযোজন, একজন এমবিএ পাস ছেলেকে তো আর লাইন মেরামতির কাজের সময় লোহার পাত বওয়ানো যায় না। ফলে সমস্যায় পড়ছে কর্তৃপক্ষ। অনেকে আবার অন্য চাকরি পেয়ে রেলের চাকরি ছে়ড়েও দিচ্ছেন।
[‘বিদ্রোহী’ গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী, গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি নেতৃত্ব]
এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মে বদল এনেছে রেল। এবার থেকে শুধুমাত্র অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ কর্মপ্রার্থীরা রেলের নিচুপদে নিয়োগের পরীক্ষায় বসতে পারবেন। এমনকী, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট কর্মপ্রার্থী নেগেটিভ মার্কিং-ও হবে। রেলকর্তাদের দাবি, কম শিক্ষিত ও পরিশ্রমী কর্মপ্রার্থীরাই গ্রুপ ডি বা গ্রুপ সি পদে ভাল কাজ করতে পারবেন। বস্তুত, কম শিক্ষিত কর্মপ্রার্থীরা মাঝপথে অন্য চাকরি পেয়ে চলেও যাবেন না। রেলের এই এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই খুশি মধ্যমেধার কর্মপ্রার্থীরা।
[প্রবল যানজটে আটকে গাড়ি, মেট্রো চেপেই বিয়ে আসরে পৌঁছাল বর]