সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন ‘বদলা’ নেবেন। যেমন কথা, তেমন কাজ। এবার একেবারে কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব বুঝে নিতে মাঠে নামলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। CAA বিরোধী আন্দেোলনের নামে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরে অভিযুক্ত ২৮ জনকে নোটিস পাঠাল রামপুর জেলা প্রশাসন। ওই ২৮ জনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
CAA বিরোধী আন্দোলনে রণক্ষেত্র উত্তরপ্রদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। সূত্রের খবর, অশান্ত মীরাটের মেডিক্যাল কলেজে মারা গিয়েছেন চারজন। লখনউয়ে দুজন ও বিজনৌর দুজন প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধুমাত্র মীরাটে ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। ১৫০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়ে। ২১ জেলায় বন্ধ ছিল ইন্টারনেটও। তারপরেও বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। রামপুরের ইদগা এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার খবর সামনে আসে তাঁরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে মিছিলের চেষ্টা করতেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় গাড়ি, বাস। ভাঙচুর করা হয় সরকারি অফিস, দোকান। পুলিশকে লক্ষ্য করে চলে পাথরবৃষ্টি। সেসময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, “সব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। আমরা এর বদল নেব।” এরপরই মুজফফরপুরের ৪১টি দোকান সিল করে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই দোকানগুলির ভিতর থেকেই অশান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। যার জেরে বিতর্ক ছড়ায়।
[আরও পড়ুন : পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় মানবাধিকার কমিশনের নোটিস উত্তরপ্রদেশের ডিজিকে]
এরপরই তদন্তে নামে রামপুর পুলিশ। জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও থেকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করেছে পুলিশ।এরপরই রামপুর জেলা প্রশাসনের তরফে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে খবর অনুযায়ী, জেলার ২৮ জনের বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। রামপুরের জেলাশাসক এ কে সিং জানিয়েছেন, ‘সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে যারা, পুলিশি তদন্তে তাদের নাম সামনে এসেছে। তাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ চাওয়া হবে না, তা জানাতে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।’
[আরও পড়ুন : দিঘায় বেড়াতে গিয়ে প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন? গুনতে হতে পারে জরিমানা]
জানা গিয়েছে, নোটিশে মোট ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকার সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের হিসাব জানানো হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরে সাড়ে সাত লাখ, মোটরবাইক ভাঙচুরে দেড় লাখ এবং হেলমেট, পুলিশের লাঠি-ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণের হিসেব উল্লেখ করেছে।