সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S Jaishankar)। জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান (Pakistan) সন্ত্রাসে মদত দিয়ে চলেছে। এবং এটা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শুক্রবার পুণেতে প্রকাশিত হল বিদেশমন্ত্রীর নতুন বই ‘হোয়াই ভারত ম্যাটারস’। আর সেই উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এভাবেই প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।
কীভাবে রোখা সম্ভব সন্ত্রাসকে? এপ্রসঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”জঙ্গিরা কোনও নিয়ম মেনে চলে না। তাদের মোকাবিলা করতে গেলেও তাই নিয়ম মানলে চলবে না।” এর পরই তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে ভারত। তখন তিনি বলেন, ”একটা তো পাশেই আছে। ওটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সত্যি বলতে কী, এটা সবারই জানা। সেই দেশটার নাম পাকিস্তান।”
[আরও পড়ুন: রাজনীতিতেও কঙ্গনার প্রতিপক্ষ ‘নেপো কিড’! ‘বাপ-ঠাকুরদার সম্পত্তি নাকি?’ ফুঁসছেন পদ্মপ্রার্থী]
তবে পাকিস্তান প্রসঙ্গে আগের সরকারকেও তোপ দেগেছেন তিনি। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ”আমাদের নিজেদের দিকেও তাকাতে হবে। ভাবতে হবে কেন এমন হল। এর একটা কারণ আমরা নিজেরাই। যদি একেবারে শুরু থেকেই পরিষ্কার করে দেওয়া হত, পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে তা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না তাহলে আমাদের একেবারে ভিন্ন নীতিতে চলা সম্ভব হত। ২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সন্ত্রাস তো ওই বছর শুরু হয়নি। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার সময়ও হয়নি। এটা শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে।”
ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শংকর বলেন, ”১৯৪৭ সালে প্রথমে পাকিস্তান থেকে লোকেরা এসে কাশ্মীরে হামলা চালায়। এটা সন্ত্রাস। গ্রাম-শহর পুড়িয়ে দেওয়া হল। বিপুল সংখ্যক মানুষকে খুন করা হল। পাক সেনা সেই সময় পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত থেকে উপজাতির লোকদের ফ্রন্টলাইলে রেখে কাশ্মীরকে অশান্ত করতে চেয়েছিল।” তাঁর মতে, এই সময় থেকেই কড়া পদক্ষেপ করলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।
[আরও পড়ুন: ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ইজরায়েলে হামলা চালাতে পারে ইরান, ভারতীয়দের কী বার্তা বিদেশমন্ত্রকের?]
পাশাপাশি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা প্রসঙ্গে তৎকালীন ইউপিএ সরকারকে তোপ দাগেন জয়শংকর। তিনি বলেন, ”তৎকালীন ইউপিএ সরকার সেই সময় কত রকম পর্যালোচনা করেছিল স্রেফ এই সিদ্ধান্তে আসতে যে পাকিস্তানে হামলা করার মূল্য হামলা না করার চেয়েও বেশি।”