সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে সচরাচর কেউ খালি হাতে ফেরে না। শুধু ভারত নয়, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান হোক কিংবা অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বারবার তাঁকে দেখা গিয়েছে পরিত্রাতার ভূমিকায়। ফের একবার সেই উদাহরণই রাখলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। এবারও এক পাকিস্তানি নাগরিকের সাহায্যে এগিয়ে এলেন তিনি।
[রহমানের সুরে নেচে বাজিমাত কলেজ ছাত্রীদের, ভাইরাল ভিডিও]
বাবার লিভারের অসুখ। প্রতিস্থাপন করার নিদান দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু পাকিস্তানে সেই সুবিধা না থাকায় বাবার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য ভারতে আসতে হত সৈয়দ আয়ুবকে। বাবাকে সুস্থ করতে বিক্রি করে দিয়েছেন প্রায় অর্ধেক সম্পত্তি। তবুও মেডিক্যাল ভিসা না পাওয়ায় ভারতে আসতে পারছিলেন না। এরপরেই সুষমা স্বরাজকে উদ্দেশ্য করে টুইট করেন তিনি। লেখেন, ‘ভারতে বাবার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য নিজের প্রায় অর্ধেক সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছি। তবুও মেডিক্যাল ভিসা পাচ্ছি না। কেন সাধারণ মানুষকে সবসময় ভুগতে হবে?’ বিদেশমন্ত্রীর নজরে আসতেই তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাল্টা টুইট করে লেখেন, ‘আমার সহানুভূতি তোমার সঙ্গে রয়েছে। আমরা তোমাকে অবশ্যই ভিসা দেব। সরতাজ আজিজ সাহেবের উচিত ছিল তোমার কথা আমাকে জানানো।’
@SushmaSwaraj i sold half of my assets 4 my father’s liver transplant from india and now no medical visa for us.why only common man suffers.
— saeed ayub (@saeedayub1) June 4, 2017
My sympathies are with you. We will give you the visa. Sartaj Aziz Sahib should recommend your case. https://t.co/ZZvQjafIGY
— Sushma Swaraj (@SushmaSwaraj) June 4, 2017
[‘পাকিস্তান একটা গুলি ছুড়লে ভারতীয় সেনাও গুলির হিসাব রাখবে না’]
তবে এই প্রথম নয়, মাসখানেক আগে ভারতে ঘুরতে এসে আটকে পড়েছিলেন পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন মহিলা। টুইটারে সমস্যার কথা জানাতেই নিরাপদে তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বিদেশমন্ত্রী। এরপর লাহোরের বাসিন্দা কেন সিদ্ধ নামে এক ব্যক্তি দু’মাসের সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য চান সুষমার কাছে। মেডিক্যাল ভিসার জন্য আর্জি জানিয়ে তাঁর উদ্দেশে টুইট করেছিলেন। ওই ব্যক্তির সাহায্যেও এগিয়ে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ।
[পাঞ্জাবে আইএসআই মদতপুষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফাঁস, গ্রেপ্তার ৩ জঙ্গি]
বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান দু’দেশের মধ্যেই পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত। কাশ্মীর ইস্যু, সীমান্ত সমস্যা থেকে শুরু প্রাক্তন ভারতীয় নৌসেনা অফিসার কুলভূষণ যাদবের ফাঁসি, প্রতিটি ক্ষেত্রেই মতবিরোধ তুঙ্গে। সেই পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে একজন পাকিস্তানি নাগরিকের প্রতি বিদেশমন্ত্রীর এভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, নিঃসন্দেহে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।